ভিড়ভাট্টা ভুলে পাহাড়ের নির্জন কোণে দু-দিন! উত্তরবঙ্গের এই ‘সিক্রেট’ ডেস্টিনেশন চেনেন কি?

মার্চের শেষ মানেই কাজের পাহাড়প্রমাণ চাপ আর সন্তানদের বার্ষিক পরীক্ষার টেনশন। এই হাঁসফাঁস করা পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে দু-তিন দিনের একটা ছোট্ট ব্রেক চাইছেন? তবে আপনার জন্য উত্তরবঙ্গের কোলে লুকিয়ে থাকা এক অপূর্ব নিভৃত গ্রাম হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। ডুয়ার্স আর পাহাড়ের সন্ধিস্থলে অবস্থিত এই জায়গাটির নাম ‘কুমাই’। ঘিঞ্জি ট্যুরিস্ট স্পট থেকে দূরে, কুয়াশা আর সবুজের মিতালিতে আপনি এখানে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাবেন।

কুমাইয়ের প্রধান আকর্ষণ হলো এর আদিম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। আকাশ পরিষ্কার থাকলে আপনার হোমস্টের জানলা দিয়েই দেখা মিলবে তুষারশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘার। চারদিকে ঘন জঙ্গল, ছোট ছোট পাহাড়ি ঝরনা আর ছবির মতো সাজানো গ্রাম— সব মিলিয়ে কুমাই এক মায়াবী হাতছানি। কাছেই বয়ে চলেছে মূর্তি নদী। দুপুরবেলা পাহাড়ি খাবারের স্বাদ নিয়ে নদীর ধারে কিছুটা সময় কাটিয়ে দেওয়া আপনার মনের সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে মুছে দেবে।

এখানকার চা-বাগানগুলো দেখলে মনে হয় সবুজ গালিচা পাতা রয়েছে। কুমাই ভিউ পয়েন্টে দাঁড়ালে দূরে ভুটান ঘাটের পাহাড়ের দেখা মেলে, যা এককথায় অনবদ্য। আপনি যদি একটু নিরিবিলিতে সময় কাটাতে ভালোবাসেন, তবে এই গ্রাম্য পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। হাতে সময় থাকলে কুমারি পার্ক বা গুরাস পয়েন্ট থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।

কীভাবে যাবেন?
প্রথমে ট্রেন বা বাসে আপনাকে পৌঁছাতে হবে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) অথবা বাগডোগরা বিমানবন্দর। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে কালিম্পং হয়ে কুমাই পৌঁছাতে সময় লাগবে মেরেকেটে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। যাওয়ার পথের দু-ধারের চা-বাগান আপনার যাত্রাকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে।

কখন যাবেন ও কোথায় থাকবেন?
কুমাই ঘোরার সেরা সময় হলো বসন্তকাল। তবে ভিড় এড়াতে বছরের যেকোনো সময় ঘুরে আসা যায়। থাকার জন্য বেশ কিছু আরামদায়ক হোমস্টে রয়েছে। সপরিবারে যেতে চাইলে আগে থেকে বুকিং করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।