বিশেষ: মালদার কালিয়াচকে ঠিক কী ঘটেছে? এক নজড়ে জেনেনিন বিস্তারিত ঘটনা

বুধবার বিকেল ৪টে থেকে বৃহস্পতিবার সকাল— প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে নরক গুলজার মালদার কালিয়াচক। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের (Judicial Officers) জীবন সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াল। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে ‘পরিকল্পিত গেমপ্ল্যান’ বলে দাবি করলেও, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে?

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার বিকেলে মোথাবাড়িতে। কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার কাজে গিয়েছিলেন সাতজন বিচারক, যাঁদের মধ্যে ৩ জন মহিলা ছিলেন।

  • ঘেরাও: বিকেল ৪টে নাগাদ কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী ব্লক অফিস ঘিরে ফেলে।

  • বন্দিদশা: দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা অফিসের ভেতরেই আটকে থাকেন বিচারকরা। বাইরে চলতে থাকে মুহুর্মুহু স্লোগান ও উত্তেজনা।

  • মধ্যরাতে উদ্ধার: রাত ১২টার পর বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। অভিযোগ, বিচারকদের কনভয় বের করার সময় বিক্ষোভকারীরা গাড়িতে হামলার চেষ্টা চালায়। এমনকি পুলিশের গাড়ি এক আন্দোলনকারীকে ধাক্কা দিয়েছে— এই অভিযোগে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

বৃহস্পতিবারও রণক্ষেত্র ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক

বুধবার রাতের রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার সকালে ফের আগুন জ্বলে ওঠে মালদায়।

  • টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ: পুরাতন মালদা ও ইংলিশবাজারের যদুপুর এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে, বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড করে জাতীয় সড়ক স্তব্ধ করে দেয় জনতা।

  • পুলিশের ওপর হামলা: যদুপুরে অবরোধ তুলতে গেলে উন্মত্ত জনতার মারে এক পুলিশকর্মী গুরুতর আহত হন।

  • আশ্বাস: চার দিনের মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম তোলার মৌখিক প্রতিশ্রুতি মেলার পর কিছু জায়গায় অবরোধ উঠলেও পরিস্থিতি এখনও থমথমে।

মুখ্যমন্ত্রীর ‘গেমপ্ল্যান’ বনাম বিজেপির ‘থানা পোড়ানো’র স্মৃতি

মুর্শিদাবাদের সাগরদীঘি থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “আমি কিছুই জানতাম না, রাতে এক সাংবাদিক আমাকে ফোনে খবর দেন। এটা একটা পরিকল্পিত গেমপ্ল্যান হতে পারে।” তিনি কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, উস্কানিতে পা দিলে CBI বা NIA এসে গ্রেফতার করতে পারে।

অন্যদিকে, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ কালিয়াচকের পুরনো স্মৃতি উস্কে দিয়ে বলেন, “ওখানে আগে থানা পোড়ানো হয়েছিল, এখন বিচারকদের ওপর হামলা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ কোথায় যাচ্ছে?” সুকান্ত মজুমদারের দাবি, বিচারকদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ভীতিপ্রদ।