“১৫ লক্ষ টাকা কই?” সুতির মঞ্চ থেকে মোদীকে তোপ মমতার, মালদহ কাণ্ডেও দিলেন বড় বার্তা

মুর্শিদাবাদের সুতির জনসভা থেকে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬-এর নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বৃহস্পতিবার সাগরদিঘি ও সুতিতে জোড়া সভা করেন তিনি। মালদহের সাম্প্রতিক অশান্তি থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া—একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “গন্ডগোল আমি সমর্থন করি না, আমি শান্তির পক্ষে।”

বিজেপি ও বিভাজনের রাজনীতি:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, মালদহ বা মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় বিজেপির রাজনৈতিক জমি শক্ত নয় বলেই তারা ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি করছে। তিনি বলেন, “১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল, কিছুই দেয়নি।” পাশাপাশি ভোটার তালিকায় কারচুপি নিয়ে সরব হয়ে তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র মালদহ নয়, ভবানীপুরেও হাজার হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। একে ‘উকুন বাছার’ সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু ও মহিলা ভোটারদের নিশানা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নিয়ে তোপ:
ভোটের মুখে ইডি, সিবিআই ও এনআইএ-র সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একে ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিরোধীদের চাপে রাখতেই এই সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার জন্য গোটা রাজ্যকে বদনাম করার প্রচেষ্টাকে তিনি কড়া ভাষায় নিন্দা করেন। একইসঙ্গে বিচারপতিদের ওপর হামলা না করার বিষয়েও সকলকে সতর্ক করে দেন তিনি।

উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি:
আক্রমণের পাশাপাশি এদিন উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দেন, রাজ্যের সমস্ত কাঁচাবাড়ি ধাপে ধাপে পাকা করে দেওয়া হবে এবং প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে। তৃণমূল প্রার্থী ইমানি বিশ্বাসের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় তিনি দাবি করেন, ইতিধ্যেই এক কোটি পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে। তাঁর কথায়, ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার প্রশ্নে তৃণমূলই বাংলার একমাত্র বিকল্প।