মানুষের চেয়েও বেশি মায়া! মৃত দাদিমার দেহ আঁকড়ে অঝোরে কাঁদল বানর, চোখে জল নেটাগরিকদের

ভালোবাসার কোনো ভাষা হয় না, জাত হয় না—এমনকি তা কেবল মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বেঙ্গালুরুর রামনগরের উত্তরা রায়ারাডোডি গ্রামে ঘটে যাওয়া একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করে দিল যে, পশুরাও বোঝে বিচ্ছেদের যন্ত্রণা। যে বৃদ্ধা প্রতিদিন নিজের হাতে ফল খাইয়ে বড় করেছিলেন এক বন্য বানরকে, তাঁর নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ল সেই অবলা প্রাণীটি। মানুষের নিষ্ঠুতার যুগে পশুর এই অকৃত্রিম ভালোবাসার দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না কেউ।
ফলের বদলে ফিরল শোকের স্মৃতি:
মৃতা বৃদ্ধার নাম পার্বতাম্মা (৮০)। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজের মেয়ের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চন্নপত্তন তালুকের বাসিন্দা এই বৃদ্ধার এক বিচিত্র অভ্যাস ছিল। গ্রামে যখনই কোনো বানর আসত, তিনি পরম মমতায় তাকে কলা, আপেল বা কমলালেবু খেতে দিতেন। বিশেষ করে একটি বানরের সঙ্গে তাঁর গড়ে উঠেছিল এক অদৃশ্য প্রাণের টান। সেদিনও বানরটি এসেছিল ফলের আশায়, কিন্তু দাদিমার পরিবর্তে সে দেখল ফুলে ঢাকা নিথর দেহ।
দেহ জড়িয়ে কান্না, হতবাক গ্রামবাসীরা:
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পার্বতাম্মার মৃতদেহ যখন উঠোনে শায়িত, তখন ভিড় ঠেলে সটান সেখানে পৌঁছে যায় বানরটি। কেউ তাকে তাড়াতে পারেনি। সে বৃদ্ধার মুখের পাশে বসে কপালে মাথা ঠেকিয়ে বিলাপ করতে থাকে। কখনও সে নিথর দেহটিকে জড়িয়ে ধরছে, আবার কখনও বৃদ্ধার গাল ঘেঁষে বসে থাকছে—যেন ঘুমিয়ে থাকা মানুষকে জাগানোর শেষ চেষ্টা। উপস্থিত গ্রামবাসীরা এই দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে যান। বৃদ্ধার নাতি সুনীল জানান, “ঠাকুমা ওকে খুব ভালোবাসতেন। ও নিয়ম করে বাড়িতে আসত। আজ ঠাকুমা নেই বুঝে ও যেভাবে শোক পালন করল, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।”
নেটপাড়ায় আবেগের ঢেউ:
পশুপ্রেমীদের কাছে এই ভিডিও এখন সবথেকে বড় আলোচনার বিষয়। সচরাচর পোষা কুকুর বা বিড়ালের মধ্যে এমন আচরণ দেখা গেলেও, একটি বন্য বানরের এই শোকপ্রকাশ নজিরবিহীন। নেটাগরিকদের মতে, আজকালকার দিনে নিজের আত্মীয়রাও যেখানে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের অবহেলা করে, সেখানে এই বানরটি প্রমাণ করল—মায়া আর কৃতজ্ঞতা কোনোদিন ফুরিয়ে যায় না। ভালোবাসা পেলে বন্য প্রাণীরাও যে মানুষের চেয়ে বড় বন্ধু হতে পারে, রামনগরের এই ঘটনা তার জীবন্ত উদাহরণ হয়ে রইল।