পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কোপ! একধাক্কায় ১৯৫ টাকা মহার্ঘ বাণিজ্যিক সিলিন্ডার, রান্নার গ্যাসের দামে কি বদল?

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ল ভারতের জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক স্তরে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি এবার আকাশছোঁয়া হলো বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের দাম। বুধবার দিল্লিতে ১৯ কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম একধাক্কায় ১৯৫.৫০ টাকা বাড়িয়ে ২,০৭৮.৫০ টাকা করা হয়েছে। এপ্রিলের শুরুতেই এই মূল্যবৃদ্ধিতে মাথায় হাত রেস্তোরাঁ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিকদের। এর আগে ১ মার্চও এই সিলিন্ডারের দাম ১১৪.৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

তবে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বাড়লেও স্বস্তি বজায় রয়েছে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে। দিল্লিতে ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৯১৩ টাকাতেই অপরিবর্তিত রয়েছে। বৃহস্পতিবারেও ঘরোয়া এলপিজি-র মূল্যে কোনও পরিবর্তন করেনি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। উল্লেখ্য, ভারত তার অপরিশোধিত তেলের ৪০ শতাংশ এবং এলপিজির প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশ থেকে। এই দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী ‘হরমুজ প্রণালী’ যুদ্ধের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে এলপিজি সরবরাহের ২০-৩০ শতাংশ বর্তমানে আটকে রয়েছে।

মেট্রো শহরগুলিতে আজকের দাম (বাণিজ্যিক বনাম গৃহস্থালি):

শহর ১৯ কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ১৪.২ কেজি গৃহস্থালি সিলিন্ডার
কলকাতা ২২০৮ টাকা ৯৩৯ টাকা
দিল্লি ২০৭৮.৫০ টাকা ৯১৩ টাকা
মুম্বই ২০৩১ টাকা ৯১২.৫০ টাকা
চেন্নাই ২২৪৬.৫০ টাকা ৯২৮.৫০ টাকা
হায়দরাবাদ ২৩২০ টাকা ৯৬৫ টাকা

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এপ্রিল মাসে বাণিজ্যিক এলপিজি-র দাম বাড়ার প্রধান কারণ হলো সৌদি চুক্তিমূল্যে (CP) অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। মার্চ মাসে যা প্রতি টন ৫৪২ ডলার ছিল, এপ্রিলে তা ৪৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮০ ডলারে। সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, আমদানির ওপর প্রবল নির্ভরতা থাকলেও দেশে এলপিজি-র পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্থিতিশীল। বাণিজ্যিক গ্যাসের মূল্য বাজার-নির্ধারিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসের শুরুতেই ইন্ডিয়ান অয়েল (IOC), ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL) এই দাম পর্যালোচনা করে।