আপ-এ বড়সড় রদবদল! রাঘব চড্ডাকে সরিয়ে রাজ্যসভায় নতুন মুখ আনলেন কেজরিওয়াল

আম আদমি পার্টির (আপ) অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা গুঞ্জন এবার প্রকাশ্যে চলে এল। রাজ্যসভার উপনেতার পদ থেকে তরুণ তুর্কি রাঘব চড্ডাকে সরিয়ে দিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল। শুধু পদচ্যুতিই নয়, আরও এক কদম এগিয়ে রাজ্যসভা সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে আপ-এর তরফে জানানো হয়েছে যে, সংসদের উচ্চকক্ষে রাঘব চড্ডাকে কথা বলার জন্য যেন আর কোনও সময় বরাদ্দ না করা হয়। রাঘবের জায়গায় নতুন উপনেতা হিসেবে পাঞ্জাবের রাজ্যসভা সাংসদ ডঃ অশোক মিত্তালের নাম প্রস্তাব করেছে দল।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও উজ্জ্বল মুখ রাঘবের বিরুদ্ধে দলের এই কঠোর অবস্থান এক গভীর ফাটলেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরেই দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে রাঘব চড্ডার অনুপস্থিতি এবং তাঁর রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে জল্পনা চলছিল। বিশেষ করে আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল আবগারি দুর্নীতি মামলায় স্বস্তি পাওয়ার পর যখন গোটা দল উৎসবে মেতেছিল, তখন রাঘবের অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এবার রাজ্যসভা থেকে তাঁকে কার্যত গুরুত্বহীন করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সেই তিক্ততার সম্পর্কই যেন শিলমোহর পেল।

রাজ্যসভা সচিবালয়ে পাঠানো চিঠিতে দল স্পষ্ট করেছে যে, আপ-এর কোটা থেকে রাঘব চড্ডাকে যেন আর কোনও বলার সুযোগ না দেওয়া হয়। তাঁর পরিবর্তে ডঃ অশোক মিত্তালই এখন থেকে উচ্চকক্ষে দলের রণকৌশল ও প্রতিনিধিত্ব সামলাবেন। ডঃ মিত্তাল বর্তমানে পাঞ্জাবের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিনিধি এবং শিক্ষা জগতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্ব।

তবে এই আকস্মিক রদবদল বা রাঘব চড্ডার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান দূরত্বের কারণ নিয়ে আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি। রাঘব চড্ডা নিজেও এই বিষয়ে এখনও মুখ খোলেননি। কিন্তু যেভাবে তাঁর ‘স্পিকিং রাইটস’ বা কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট যে আপ নেতৃত্ব তাঁর ওপর একেবারেই প্রসন্ন নয়। এই সিদ্ধান্তের পর রাঘবের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে এবং পাঞ্জাবের রাজনীতিতে এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে দেশীয় রাজনীতিতে।