মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন, আমজনতার স্বস্তিতে মোদী সরকারের ‘মাস্টারস্ট্রোক’! একঝাঁক পণ্যে শুল্ক ছাড়

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতার আঁচ এবার ভারতের বাজারেও। পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাতের ফলে জ্বালানি সঙ্কট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে এবং সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ কমাতে বড়সড় পদক্ষেপ করল নরেন্দ্র মোদী সরকার। পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একগুচ্ছ কাঁচামালের ওপর থেকে আবগারি শুল্ক (Excise Duty) ও কাস্টমস ডিউটি প্রত্যাহার করে নিল কেন্দ্র।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের কারণে বিশ্বজুড়ে ‘সাপ্লাই চেইন’ বা সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্লাস্টিক, প্যাকেজিং, টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যাল (ওষুধ), কেমিক্যাল এবং অটোমোবাইল পার্টস তৈরির শিল্পের ওপর যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, তার জন্যই এই বিশেষ ছাড়ের সিদ্ধান্ত। আপাতত আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই শুল্ক ছাড় কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রকের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যগুলো বিভিন্ন শিল্পের মেরুদণ্ড। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এগুলোর দাম বাড়লে বাজারে ওষুধ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকজাত দ্রব্য বা পোশাক—সবকিছুরই দাম আকাশছোঁয়া হতে পারত। সেই মুদ্রাস্ফীতি রুখতেই কেন্দ্রীয় সরকার এই ‘টার্গেটেড রিলিফ’ বা লক্ষ্যভিত্তিক স্বস্তি দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে।

যেসব পণ্যে শুল্ক ছাড় মিলবে:
সরকারের পক্ষ থেকে একটি দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— অ্যানহাইড্রাস অ্যামোনিয়া, মেথানল, টলিইন, স্টাইরিন, ভিনাইল ক্লোরাইড মোনোমের, মনোইথালিন গ্লাইকল, ফেনল, অ্যাসেটিক অ্যাসিড এবং পিউরিফাইড টেরেপথালিক অ্যাসিড। এছাড়াও পলিইথালিন, পলিপ্রপিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), পলিথেলিন টেরেপ্যাথেলেট চিপ, পলিকার্বনেট, এপোক্সি রেজিন ও ফর্মালডিহাইড ডেরিভেটিভের মতো রাসায়নিকের ওপর থেকেও শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-আমেরিকা সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। এমতাবস্থায় আমদানিকৃত এই কাঁচামালগুলোর দাম বাড়লে দেশের উৎপাদন ক্ষেত্র বড় ধাক্কা খেতে পারত। সরকারের এই আগাম পদক্ষেপের ফলে শিল্পমহল যেমন স্বস্তি পাবে, তেমনই খুচরো বাজারেও জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। ৩০ জুনের পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র।