“ওদের তেলের আমাদের দরকার নেই!” ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ট্রাম্পের হুঙ্কার, মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে বড় বদল?

“মধ্যপ্রাচ্যের ওপর আমরা আর একেবারেই নির্ভরশীল নই… ওদের তেলের আমাদের কোনও প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র মিত্র দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতেই আমরা সেখানে রয়েছি।”— ঠিক এই ভাষাতেই ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার রণকৌশল স্পষ্ট করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার এক হাই-ভোল্টেজ প্রাইম-টাইম ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ কোনও তেল বা সম্পদের দখলের লড়াই নয়, বরং এটি ইজরায়েল বা উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর প্রতি আমেরিকার এক ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা। বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং খোদ আমেরিকার অভ্যন্তরে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির আবহে ট্রাম্পের এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, ইরানের সামরিক মেরুদণ্ড কার্যত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র চূড়ান্ত পর্যায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কাজ সম্পূর্ণ করতে মার্কিন সেনার আর মাত্র “দুই থেকে তিন সপ্তাহ” সময় লাগবে। ট্রাম্পের ভাষায়, “ইরানের নৌবাহিনী এখন ইতিহাস এবং তাদের বায়ুসেনা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।” উল্লেখ্য, মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে, যার প্রভাব পড়ে বিশ্বরাজনীতিতে।

তবে ট্রাম্পের এই ভাষণের নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্ন উঠছে, আমেরিকার যদি মধ্যপ্রাচ্যের তেলের প্রয়োজন নাই থাকে, তবে কেন তারা এই যুদ্ধে এত গভীরভাবে জড়িয়ে? যদিও ট্রাম্পের যুক্তি হলো মিত্রদের সুরক্ষা প্রদান, কিন্তু বাস্তবে জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম খোদ আমেরিকার সাধারণ মানুষের পকেটে টান দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন মিড-টার্ম নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই ট্রাম্প এই ‘কড়া বার্তা’ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, আর্থিক নীতি সামলানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের রেটিং কমে ৩১ শতাংশে এসে ঠেকেছে। তাই হারানো জনমত ফিরে পেতেই এই জাতীয়তাবাদী সুর চড়িয়েছেন তিনি।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল পরিকাঠামো ধ্বংস করলেই দীর্ঘমেয়াদী জয় আসে না। ট্রাম্প যদিও দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষের দাবি করছেন, কিন্তু যুদ্ধ পরবর্তী ‘এগজিট স্ট্র্যাটেজি’ বা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার নির্দিষ্ট কোনও নীল নকশা এখনও অস্পষ্ট। “আমাদের ওদের তেলের প্রয়োজন নেই”— প্রেসিডেন্টের এই দাবি আগামী দিনে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার সামনে কতটা টিকে থাকে, এখন সেটাই দেখার।