‘সবচেয়ে পোলারাইজড রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ’, কালিয়াচক কাণ্ডে সিবিআই-এনআইএ তদন্তের নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

মালদহের কালিয়াচকে সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ৮ ঘণ্টা আটকে রাখা এবং তাঁদের কনভয়ে পাথর ছোঁড়ার ঘটনায় নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে বর্ণনা করেছে। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, এটি বিচারকদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটি নিকৃষ্ট প্রচেষ্টা। পরিস্থিতি বিচার করে এই ঘটনার তদন্তভার সিবিআই (CBI) অথবা এনআইএ-র (NIA) হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা রাত দুটো পর্যন্ত সব খবরের ওপর নজর রেখেছি। বিকেল ৫টা থেকে বিচারকদের ঘেরাও করে রাখা হলেও রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। এমনকি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ফোন করার পরেও জেলাশাসক বা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে যাননি।” বিচারকদের মধ্যে তিনজন মহিলা ছিলেন উল্লেখ করে আদালত জানায়, প্রশাসনিক গাফিলতির প্রমাণ এখানে স্পষ্ট। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, “জুডিশিয়াল অফিসাররা যে অর্ডার দিচ্ছেন, তা কোর্টের অর্ডার। তাঁদের রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।”
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত আপনার রাজ্যে সবাই রাজনীতির ভাষায় কথা বলেন। পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে দেশের সবথেকে পোলারাইজড রাজ্য।” রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল ‘আইনশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ ভাঙন’ কথাটি বাদ দেওয়ার অনুরোধ করলেও আদালত তা গ্রহণ করেনি। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যেখানে বিচারকরা কাজ করছেন এবং থাকছেন, সেখানে অবিলম্বে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। একই সঙ্গে হোম সেক্রেটারি, ডিডিপি এবং ডিএম-দের শোকজ করে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাঁরা সময়মতো পদক্ষেপ করেননি। আদালতের এই কড়া মনোভাব পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জন্য বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল।