ভোটের মুখে বঙ্গে অনুপ্রবেশের বড় ছক ফাঁস! জলপাইগুড়ি স্টেশনে জাল আধার কার্ডসহ গ্রেফতার ১৪ বাংলাদেশি

চব্বিশের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে যখন কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা রাজ্য, ঠিক তখনই উত্তরবঙ্গে ধরা পড়ল অনুপ্রবেশের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অসম থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে আরপিএফ (RPF)-এর জালে ধরা পড়ল ১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক। ধৃতদের কাছ থেকে জাল আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনা সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের আগুন উস্কে দিয়েছে।
বুধবার রাতে কামাখ্যা থেকে দিল্লিগামী নর্থ-ইস্ট এক্সপ্রেসে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন আরপিএফ কর্মীরা। নির্বাচনের কারণে বিশেষ চেকিং চলাকালীন জেনারেল কামরায় থাকা কয়েকজনের কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। সন্দেহ হওয়ায় তাঁদের আধার কার্ড পরীক্ষা করতে গেলে দেখা যায় নথির সঙ্গে তথ্যের কোনো মিল নেই। এরপরই ৫ জন পুরুষ, ৫ জন মহিলা এবং ৪ জন নাবালক-নাবালিকাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর আরপিএফ আধিকারিকরা নিশ্চিত হন যে, ধৃতরা সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছেন। তাঁদের গন্তব্য ছিল দিল্লি হয়ে জম্মু-কাশ্মীর।
জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনের আরপিএফ আধিকারিক বিপ্লব দত্ত জানিয়েছেন, ধৃতদের কাছ থেকে ৫টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র ছাড়াও বাংলাদেশের টাকা এবং মালয়েশিয়ার মুদ্রা উদ্ধার হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ভোটের মুখে যখন সীমান্ত নিরাপত্তা সবথেকে কড়া হওয়ার কথা, তখন এতজন বিদেশি নাগরিক কীভাবে অনায়াসে ভারতে ঢুকে পড়ল? কে বা কারা তাঁদের এই জাল আধার কার্ড ও প্যান কার্ড তৈরিতে সাহায্য করল, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তদন্তকারীরা। আজ, বৃহস্পতিবার ধৃতদের জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যথারীতি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির অভিযোগ, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের মদতেই অনুপ্রবেশকারীরা এ রাজ্যে ঢুকে জাল নথি তৈরি করে ভোটদানের অধিকার পাচ্ছে। পাল্টা জবাবে তৃণমূলের দাবি, সীমান্ত পাহারার দায়িত্ব কেন্দ্রের বিএসএফ-এর। বিএসএফ ঠিকমতো কাজ করলে অনুপ্রবেশ সম্ভব হতো না। ২৬-এর ভোটের লড়াইয়ে ‘অনুপ্রবেশ’ যে একটি প্রধান ইস্যু হতে চলেছে, জলপাইগুড়ির এই ঘটনা তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।