বীরভূমে রণক্ষেত্র: ইটের ঘায়ে রক্তাক্ত আইসি, পুলিশকে পিটিয়ে গ্রামছাড়া করার চেষ্টা! নামল কেন্দ্রীয় বাহিনী

ভোটের বাংলায় ফের একবার আগ্নেয়গিরির রূপ নিল বীরভূম। রাস্তা তৈরিকে কেন্দ্র করে সিউড়ি থানার কাঁকুড়িয়া গ্রামে যা ঘটল, তাকে কার্যত ‘গৃহযুদ্ধ’ বললেও ভুল হয় না। গ্রামবাসীদের ছোড়া ইটের আঘাতে রক্তাক্ত হলেন সিউড়ি থানার আইসি (IC) শৈলেন্দ্র উপাধ্যায়। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, রাজ্য পুলিশকে পিছু হটতে হয় এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনতে তড়িঘড়ি মোতায়েন করতে হয় বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী।

ঘটনার সূত্রপাত সিউড়ির কাঁকুড়িয়া গ্রামে একটি রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই রাস্তাটি তৈরি নিয়ে গ্রামবাসীদের দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই চাপা উত্তেজনা ছিল। আজ কাজ শুরু হতেই সেই বিক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে সিউড়ি থানার আইসি শৈলেন্দ্র উপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি বড় পুলিশ বাহিনী গ্রামে প্রবেশ করে। কিন্তু পুলিশকে দেখামাত্রই রণংদেহি মূর্তি ধারণ করেন গ্রামবাসীদের একাংশ।

অভিযোগ, পুলিশ গ্রামে ঢোকা মাত্রই চারপাশ থেকে আকাশছোঁয়া ইটবৃষ্টি শুরু হয়। আচমকা এই অতর্কিত হামলায় পুলিশ কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। ইটের সরাসরি আঘাতে মাথা ফেটে রক্তাক্ত হন আইসি শৈলেন্দ্র উপাধ্যায়। তাঁর শরীর ও মাথায় গুরুতর চোট লাগে। সহকর্মীরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত সিউড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে, অবস্থা আশঙ্কাজনক না হলেও আঘাত যথেষ্ট গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।

এই ঘটনার পর গোটা কাঁকুড়িয়া গ্রাম এখন থমথমে। গ্রামের মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বড়সড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকাটি কার্যত পুলিশি ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছে। জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। সামান্য রাস্তা তৈরির ঘটনা কেন এমন হিংসাত্মক রূপ নিল এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উসকানি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই অনেক গ্রামবাসী ঘরছাড়া, অভিযুক্তদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।