পুলিশ সুপারের সামনেই বিচারকদের ওপর আক্রমণ? সুকান্ত-দিলীপের নিশানায় মমতা সরকার, উত্তপ্ত ২০২৬-এর ভোট ময়দান

মালদার কালিয়াচকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভ এবং জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। এই নজিরবিহীন ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বুধবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই তাণ্ডবে মহিলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক চরম হেনস্থার শিকার হন বলে অভিযোগ।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, কেবলমাত্র আধিকারিকদের আটকে রাখাই হয়নি, তাঁদের গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুরও চালানো হয়েছে। সুকান্তবাবু আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, খোদ পুলিশ সুপার (SP) যখন উদ্ধার করতে যান, তাঁর উপস্থিতিতেই মহিলা ম্যাজিস্ট্রেটদের গাড়িতে হামলা চালানো হয়। বিজেপির অভিযোগ, এই পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং এর পেছনে শাসক দলের প্ররোচনা রয়েছে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে যে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, তা রাজ্যের ভেঙে পড়া পুলিশি ব্যবস্থারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এই ঘটনাকে ‘কালিয়াচকের পুরনো সংস্কৃতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “কালিয়াচকে অশান্তির নজির নতুন নয়। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার কারণে এখানে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা দীর্ঘদিনের। প্রশাসন এখানে কার্যত ঠুঁটো জগন্নাথ।” উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে কালিয়াচকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হলে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। দীর্ঘক্ষণ আধিকারিকরা আটকে থাকার পর গভীর রাতে বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অবরোধ উঠে গেলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। নির্বাচনের আগে বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের ওপর এই হামলা রাজ্যের প্রশাসনিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীদের দাবি, যেখানে খোদ বিচারকরা সুরক্ষিত নন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? কালিয়াচকের এই ঘটনা এখন ২০২৬ নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।