ইস্তফা দিতে আসা কর্মীকে আটকে দিলেন বস! বেতন নয়, স্রেফ ১টি ম্যাজিক প্রশ্নেই বদলে গেল সমীকরণ

আধুনিক কর্পোরেট দুনিয়ায় দক্ষ কর্মী ধরে রাখা এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রেই মনে করা হয়, মোটা অঙ্কের বেতন বা ইনক্রিমেন্ট দিলেই বুঝি ইস্তফা আটকানো সম্ভব। কিন্তু ডিজিটাল ক্রিয়েটিভস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রীতি মালিকের এক সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা এই ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এক দক্ষ কর্মীর আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এবং তা সামলানোর তাঁর এই অনন্য পদ্ধতি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল।

প্রীতি মালিক জানান, তাঁর সংস্থার এক নির্ভরযোগ্য এবং অত্যন্ত দক্ষ কর্মী হঠাৎই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ওই কর্মীর কাজের মান এবং সংস্থার সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর মানিয়ে নেওয়া ছিল প্রশ্নাতীত। প্রীতি যখন পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনার জন্য তাঁর সঙ্গে বসেন, তখনই ওই কর্মী সোজাসুজি জানিয়ে দেন, “আমি আর কাজ চালিয়ে যেতে পারব না।” কোনো প্রকার রাগ বা তর্কের পথে না গিয়ে প্রীতি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় একটি প্রশ্ন করেন, যা গোটা পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেয়। তিনি জিজ্ঞাসা করেন— “আপনি যদি নিজের জন্য আদর্শ কাজের ভূমিকা (Role) নিজে তৈরি করতে পারেন, তবে সেটি কেমন হবে?”

এই প্রশ্নের উত্তর থেকেই বেরিয়ে আসে আসল সমস্যা। প্রীতি বুঝতে পারেন, ওই কর্মী বেশি টাকার জন্য নয়, বরং কাজের ধরনের অসামঞ্জস্যতার কারণে বিরক্ত হয়ে ছাড়তে চাইছিলেন। তাঁকে মূলত অটোমেশন-সংক্রান্ত সৃজনশীল কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল, যা তিনি পছন্দ করতেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তাঁর ওপর এমন কিছু একঘেয়ে ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা তাঁর মনোযোগ নষ্ট করছিল এবং কাজের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছিল।

প্রীতি মালিক দেরি না করে পরদিনই ওই কর্মীর জন্য একটি নতুন কাজের কাঠামো বা ‘রিভাইজড স্ট্রাকচার’ তৈরি করেন, যেখানে একঘেয়ে কাজগুলো সরিয়ে তাঁর প্রিয় অটোমেশন বিভাগেই তাঁকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়। ফলাফল হাতেনাতে! কর্মী সানন্দে নিজের পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে যোগ দেন।

এই ঘটনা থেকে প্রীতি মালিকের উপলব্ধি— “কর্মী ধরে রাখা মানে শুধু বোনাস বা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো নয়। এটা হলো তাদের কাজের সঠিক মূল্যায়ন করা এবং তারা যাতে অর্থপূর্ণ কাজ করতে পারে সেই পরিবেশ তৈরি করা।” সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্টটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। নেটিজেনদের অনেকেই বলছেন, বসেরা যদি ইস্তফা নেওয়ার আগে অন্তত একবার কর্মীর মনের কথা শুনতেন, তবে অনেক দক্ষ প্রতিভাকেই অকালে হারিয়ে যেতে হতো না।