“সবেচেয় বেশি মেরুকরণ বাংলায়”-মালদার ঘটনায় তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

মালদার কালিয়াচকে সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও এবং নিগ্রহের ঘটনায় এবার বেনজির ক্ষোভ প্রকাশ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ এই ঘটনাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করে রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিস্ফোরক পর্যবেক্ষণ
বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এক ভয়ংকর ছবি। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে:
-
তীব্র মেরুকরণ: ভারতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই এখন সবথেকে বেশি মেরুকরণ ঘটছে।
-
মনোবল ভাঙার ছক: নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের মনোবল ভেঙে দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
-
গণতন্ত্রে আঘাত: এই ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য চরম উদ্বেগজনক।
কপিল সিব্বালকে প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন
শুনানি চলাকালীন আইনজীবী কপিল সিব্বালকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “আপনি কি জানেন ঠিক কী ঘটেছে? বিকেল থেকে জমায়েত করে বিক্ষোভ চলল, আর মাঝরাতে বিচারকদের উদ্ধার করতে হলো!” অন্যদিকে, আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বিষয়টিকে ‘অরাজনৈতিক’ বলে আড়াল করার চেষ্টা করলেও আদালত তা মানতে নারাজ।
“রাজ্যের ওপর নির্ভর করা ঠিক হবে না”: তুষার মেহতা
কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই ঘটনায় কড়া বার্তার দাবি জানিয়ে বলেন, “নিরাপত্তার জন্য এখন আর রাজ্যের ওপর নির্ভর করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।” তিনি সাফ জানান, এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
আদালতের কড়া নির্দেশ: বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্তে রাজ্যের শীর্ষস্তরের কোনো আধিকারিককে নিয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে সেখানে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করার কথাও বলা হয়েছে।
কালিয়াচকের এই আঁচ এখন দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় প্রবল চাপে নবান্ন। বিচারব্যবস্থার ওপর এই হামলার পর নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।