“মহুয়ার গুজরাতি-মন্তব্য”-হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন মমতা, ভবানীপুরে কীসের ভয়?

লোকসভা ভোটের মুখে ‘বাঙালি অস্মিতা’ উসকে দিতে গিয়ে চরম বিপাকে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। স্বাধীনতা সংগ্রামে গুজরাটিদের অবদান নিয়ে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আসরে নেমে ক্ষমা চাইতে হলো। অন্যদিকে, এই সুযোগ হাতছাড়া না করে ‘হিন্দু ভোট’ মেরুকরণের অভিযোগে সুর চড়িয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
কী বলেছিলেন মহুয়া মৈত্র?
অমিত শাহের ‘চার্জশিট’-এর পাল্টা দিতে গিয়ে মহুয়া মৈত্র প্রশ্ন তুলেছিলেন, “স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালিরা যখন রক্ত দিচ্ছিল, তখন গুজরাটিরা কোথায় ছিল? কালাপানি যাওয়া বিপ্লবীদের ৬০ শতাংশই বাঙালি, বাকিরা পাঞ্জাবি। একজন গুজরাটির নাম বলতে পারবেন?” সাভারকরের প্রসঙ্গ টেনেও তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।
ড্যামেজ কন্ট্রোলে মুখ্যমন্ত্রী: ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’
মহুয়ার এই মন্তব্যের পরেই ভবানীপুরের অ-বাঙালি ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের গুজরাটি বাসিন্দাদের রোষ থেকে বাঁচতে তড়িঘড়ি আসরে নামেন মমতা। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম বসুর মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন:
“আমার সমস্ত গুজরাটি ভাই-বোনেদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ওই সাংসদের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য দল সমর্থন করে না। আপনারা নিশ্চিত থাকুন, এমন ঘটনা আর ঘটবে না।”
শুভেন্দুর পাল্টা তোপ: “হিন্দু ভোট ভাগ করার চেষ্টা”
শনিবার রাতে ভবানীপুরে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি মমতাকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, “ভাষার নামে হিন্দুদের ভাগ করতে চাইছেন মমতা। কখনও বলছেন বহিরাগতরা ভবানীপুর দখল করছে, কখনও বাঙালি-গুজরাটি বিভেদ তৈরি করছেন। কিন্তু এবার হিন্দুরা ভাগ হবে না, দিনের শেষে আমরা সবাই সনাতনী।” শুভেন্দুর দাবি, মহুয়া যা বলেছেন তা আসলে তৃণমূলের পরিকল্পনারই অংশ।
ভোটের আগে এই ‘আঞ্চলিক অস্মিতা’ বনাম ‘হিন্দু ভোট’— কোন অস্ত্র বেশি কার্যকরী হয়, সেটাই এখন দেখার।