ইরানে আরও ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের! বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন, ব্যারেল পিছু ১০০ ডলার পার

ইরান বনাম আমেরিকার যুদ্ধের এক মাস অতিক্রান্ত। গোটা বিশ্ব যখন হোয়াইট হাউসের দিকে তাকিয়ে ছিল যুদ্ধবিরতির অপেক্ষায়, ঠিক তখনই উল্টো সুর গাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি কোনও শান্তির বার্তা তো দিলেনই না, বরং ইরানে আরও ‘ভয়ঙ্কর’ হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন। এই সামরিক অভিযানের নাম তিনি দিয়েছেন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাবের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালেই ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দামও ১০৪ ডলার ছুঁয়ে ফেলেছে। ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকা এখন তেল ও গ্যাস উৎপাদনে সৌদি আরব ও রাশিয়ার সম্মিলিত শক্তির চেয়েও বেশি শক্তিশালী। তাই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসা তেলের ওপর আমেরিকা আর নির্ভরশীল নয়। যারা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের উদ্দেশে ট্রাম্পের কড়া বার্তা— “সাহস সঞ্চয় করুন, হরমুজে যান এবং সেটি দখল করে রক্ষা করুন। নিজেদের তেলের পথ খোলার দায়িত্ব এখন আপনাদেরই।”
এদিকে যুদ্ধ কবে শেষ হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন ট্রাম্প। একদিকে তিনি বলছেন অভিযান শেষের মুখে, আবার অন্যদিকে দাবি করছেন ইরান চুক্তি না মানলে হামলা আরও তীব্র হবে। ট্রাম্পের দাবি ছিল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছেন, যদিও ইরানের বিদেশ মন্ত্রক একে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যে’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইজরায়েল ও পশ্চিম এশিয়ার বন্ধু দেশগুলোর প্রশংসা করলেও ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরানকে রুখতে আমেরিকা যে কোনও চরম পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের এই ‘রণং দেহি’ মেজাজে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতার মেঘ আরও ঘনীভূত হলো।