‘আমাদের তেলের দরকার নেই!’ হরমুজ প্রণালী নিয়ে হাত ধুয়ে ফেললেন ট্রাম্প? কাঁপছে বিশ্ববাজার

পশ্চিম এশিয়ায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আজ ৩৪ দিন। গোটা বিশ্ব যখন তাকিয়ে আছে হরমুজ প্রণালীর সংকটের দিকে, ঠিক তখনই বিশ্ব রাজনীতিতে প্রবল আলোড়ন ফেলে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা এবং প্রণালী অবরোধমুক্ত করার বৈশ্বিক চাপের মুখে কি তবে হাল ছেড়ে দিচ্ছে ওয়াশিংটন? হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষণ অন্তত সেই জল্পনাকেই কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।
এদিন সরাসরি সুর চড়িয়ে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, আমেরিকার এখন আর হরমুজ প্রণালী থেকে তেল আমদানির কোনও প্রয়োজন নেই। বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের অন্যতম প্রধান ধমনী বলে পরিচিত এই পথটি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমেরিকার মাটির নিচেই রয়েছে নিজস্ব তেল এবং গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডার। আমরা এখন জ্বালানি শক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সুতরাং, মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর আমেরিকা আর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়।” ট্রাম্পের এই বার্তা কার্যত মিত্র এবং শত্রু—উভয় পক্ষকেই চরম দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
প্রেসিডেন্ট আরও কড়া ভাষায় জানান, যাদের এই পথ দিয়ে তেল প্রয়োজন, তারাই এখন হরমুজ প্রণালী খোলার ব্যবস্থা করুক। অর্থাৎ, আমেরিকা আর এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা বা তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য নিজের সেনা বা সম্পদ ব্যয় করতে আগ্রহী নয়। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল পাওয়ার কোনও ব্যাকুলতা তাঁদের নেই। যুদ্ধের ৩৪ তম দিনে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ‘হাত ধুয়ে ফেলা’র কৌশল পশ্চিম এশিয়ার সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল। এখন প্রশ্ন উঠছে, আমেরিকা সরে দাঁড়ালে বিশ্ব তেলের বাজারে যে হাহাকার তৈরি হবে, তার দায় কে নেবে?