বিদেশে আলাদা বাড়ি, মাসে ১০০০ ডলার খোরপোশ! স্বামীর শর্ত মেনে ফিরছেন স্ত্রী; তুঙ্গে চর্চা

দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং টানাপোড়েনের পর অবশেষে মিটল জটিলতা। পাঁচ বছরের শিশুকন্যার ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিল, শিশুটিকে তার জন্মভূমি কানাডাতেই ফেরত পাঠাতে হবে। বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কানাডা থেকে কলকাতা এসে স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে যেতে হবে স্বামীকে। তবে এই প্রত্যাবর্তনের জন্য আদালত কিছু কড়া শর্তও আরোপ করেছে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অশান্তির সূত্রপাত: ২০১৪ সালে এই বাঙালি দম্পতির বিয়ে হয়। কর্মসূত্রে স্বামী কানাডার স্থায়ী নাগরিক। ২০২০ সালে সেখানে তাদের কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। স্ত্রীর অভিযোগ, স্বামী পরকীয়া আসক্ত এবং তাঁর ওপর মানসিক নির্যাতন চালাতেন। অশান্তি চরমে পৌঁছালে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কন্যাকে নিয়ে কলকাতায় বাপের বাড়ি চলে আসেন ওই মহিলা। এরপরই শুরু হয় আইনি লড়াই। কানাডার অন্টারিও আদালত আগেই শিশুকে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল, যা অমান্য করায় বাবা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
আদালতের কড়া অবস্থান ও শর্তাবলী: শুনানি চলাকালীন বিচারপতিরা বারবার মনে করিয়ে দেন, শিশুটি জন্মসূত্রে কানাডার নাগরিক এবং তার পাসপোর্টের মেয়াদও ফুরিয়ে এসেছে। ফলে তাকে ভারতে আটকে রাখা বেআইনি। বুধবার স্ত্রী আদালতে জানান, তিনি ফিরতে রাজি, তবে স্বামীর সঙ্গে এক ছাদের নিচে থাকবেন না। বিচারপতিরা নির্দেশ দেন:
-
কানাডায় স্ত্রী ও সন্তান থাকবেন স্বামীর নিজের বাড়িতে, আর স্বামী থাকবেন আলাদা ভাড়া বাড়িতে।
-
যতদিন না স্ত্রী চাকরি পাচ্ছেন, স্বামী তাঁকে প্রতি মাসে ১০০০ কানাডিয়ান ডলার হাতখরচ দেবেন।
-
ভারত থেকে কানাডা যাওয়ার সমস্ত খরচ এবং সেদেশে থাকা-খাওয়ার যাবতীয় দায়ভার নিতে হবে স্বামীকে।
-
বাড়ি কেনার ঋণের কিস্তি এবং করও স্বামীকেই মেটাতে হবে।
ভবিষ্যৎ ও সমঝোতার সুযোগ: ডিভিশন বেঞ্চ মনে করে, বাবা-মায়ের ইগোর লড়াইয়ে যেন শিশুর শৈশব নষ্ট না হয়। তাই আপাতত তিন মাসের জন্য এই আর্থিক ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, নিজেদের মধ্যেকার তিক্ততা কমিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার জন্য প্রয়োজনে পেশাদার কাউন্সিলরের সাহায্য নিতেও পরামর্শ দিয়েছে আদালত। শেষ পর্যন্ত জেদ বিসর্জন দিয়ে সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বার্থে মায়ের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে আইনি মহল।