আকাশছোঁয়া এভিয়েশন ফুয়েল! এক ধাক্কায় ১১৫% বাড়ল বিমানের জ্বালানির দাম, টিকিট কি ধরাছোঁয়ার বাইরে?

মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করে এবার আকাশছোঁয়া হতে চলেছে বিমান যাত্রার খরচ। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ভারতে বিমানের জ্বালানি বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম এক অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের অস্থিরতা এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দিল্লিতে এটিএফ-এর দাম ১১৫ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছে। স্বাধীনতার পর ভারতের ইতিহাসে জ্বালানির দামে এই পরিমাণ বৃদ্ধি আগে কখনও দেখা যায়নি।
টিকিটের দাম কি দ্বিগুণ হবে? বিমানের টিকিট এখনই দ্বিগুণ হবে কি না তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তবে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বিমান সংস্থার মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ খরচ হয় জ্বালানি খাতে। ফলে জ্বালানির দাম যদি ১১৫% বৃদ্ধি পায়, তবে বিমান সংস্থাগুলির ওপর পাহাড়প্রমাণ চাপ সৃষ্টি হবে। এয়ার ইন্ডিয়া বা ইন্ডিগোর মতো বড় সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই তাদের ‘ফুয়েল সারচার্জ’ (Fuel Surcharge) বা জ্বালানি মাশুল বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। এর ফলে টিকিটের দাম ৩০% থেকে ৫০% পর্যন্ত সরাসরি বেড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন এই পরিস্থিতি?
-
যুদ্ধের প্রভাব: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
-
সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজ চলাচল এবং তেল শোধনাগারগুলি সংকটের মুখে পড়েছে।
-
টাকার অবমূল্যায়ন: আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের তুলনায় টাকার দাম পড়ে যাওয়াও আমদানিকৃত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাস ও অটো এলপিজির দাম বেড়েছে। এবার বিমান জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কেবল পর্যটন শিল্প নয়, সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও বড়সড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে গরমের ছুটির আগে এই মূল্যবৃদ্ধি পর্যটকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিল।