কাগজ-কলম অতীত! ভারতে শুরু ঐতিহাসিক ডিজিটাল জনগণনা, ঘরে বসেই তোলা যাবে নাম; জানুন নিয়ম

ভারতে জনসংখ্যা গণনার ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হলো ‘সেনসাস ২০২৭’-এর প্রথম ধাপ। স্বাধীনতার পর এটি অষ্টম এবং দেশের সামগ্রিক ১৬তম জনগণনা। তবে এবারের বিশেষত্ব হলো, এটিই ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল জনগণনা। প্রযুক্তি আর তথ্যের মেলবন্ধনে এবার আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো বা গণনাকারীর অপেক্ষায় বসে থাকার দিন শেষ হতে চলেছে।
প্রথম ধাপ: হাউস লিস্টিং ও আপনার কাজ প্রথম পর্যায়ে মূলত বাড়িঘরের অবস্থা এবং পরিবারের সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নেওয়া হবে। ১৬ এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই পর্যায়ে বাড়ির মালিকানা, পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ এবং রান্নার জ্বালানির পাশাপাশি আপনার পরিবারে মোবাইল, ইন্টারনেট বা গাড়ি আছে কি না, তাও জানতে চাওয়া হবে।
ঘরে বসে ‘স্ব-নিবন্ধন’ বা সেলফ রেজিস্ট্রেশন: ডিজিটাল ইন্ডিয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে সরকার এবার নাগরিকদের জন্য এনেছে স্ব-নিবন্ধনের সুযোগ। একটি বিশেষ পোর্টালের মাধ্যমে হিন্দি, ইংরেজি ও বাংলাসহ মোট ১৬টি ভাষায় নাগরিকরা নিজেদের তথ্য নিজেরাই আপলোড করতে পারবেন। মোবাইল নম্বর দিয়ে লগ-ইন করে পরিবারের তথ্য জমা দিলেই মিলবে একটি ইউনিক আইডি। পরে যখন সরকারি গণনাকারী আপনার বাড়িতে আসবেন, তখন শুধু এই আইডি দেখালেই কাজ শেষ!
ডিজিটাল অ্যাপ ও রিয়েল-টাইম মনিটরিং: আগে যেখানে তথ্য সংগ্রহে কাগজ-কলমের ব্যবহার হতো, এবার সেখানে গণনাকারীরা স্মার্টফোনের বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করবেন। এতে তথ্যের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমবে এবং দ্রুত সার্ভারে তথ্য পৌঁছে যাবে। প্রায় ৩০ লক্ষ গণনাকারী ও সুপারভাইজার এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও বাজেট: কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পের জন্য ১১,৭১৮.২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপের আসল জনসংখ্যা গণনা। ১ মার্চ ২০২৭ তারিখটিকে ‘রেফারেন্স ডেট’ হিসেবে ধরা হয়েছে। তুষারাবৃত অঞ্চলগুলোতে ২০২৬-এর সেপ্টেম্বর থেকেই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই আধুনিক পদ্ধতিতে জনগণনা কেবল সময় বাঁচাবে না, বরং সরকারের কাছে দেশের প্রতিটি মানুষের সঠিক আর্থ-সামাজিক চিত্র তুলে ধরবে, যা ভবিষ্যতে সঠিক জনকল্যাণমুখী প্রকল্প তৈরিতে সহায়ক হবে।