ইব্রাহিমোভিচের দেশের হাতে আলাদিনের প্রদীপ! বিশ্বকাপের নিয়মেই কি লুকিয়ে ছিল এই অবিশ্বাস্য সুযোগ?

বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল বললেও কম বলা হয়। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের গ্রুপ স্তরে পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই—ছয়টি ম্যাচের মধ্যে একটিতেও জয় নেই, চারটিতে হার এবং হজম করতে হয়েছে এক ডজন গোল। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থেকে বিদায় নেওয়ার কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত উত্তর আমেরিকাগামী বিমানে ওঠার টিকিট নিশ্চিত করে ফেলল সুইডেন। ফুটবল প্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন, ঠিক কোন জাদুবলে বা নিয়মের মারপ্যাঁচে মূলপর্বে জায়গা করে নিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি?

বাছাইপর্বে ভরাডুবি থেকে স্বপ্নের ফেরা ইউরোপীয় (UEFA) বাছাইপর্বের চার দেশীয় গ্রুপে সুইডেনের অবস্থা ছিল শোচনীয়। ৬টি ম্যাচে ০ জয়, ২ ড্র এবং ৪ হার। গোল করেছিল মাত্র ৪টি, আর খেয়েছিল ১২টি। সেই গ্রুপ থেকে সরাসরি বিশ্বকাপে যায় সুইজারল্যান্ড, আর রানার্সআপ হয়ে প্লে-অফে ওঠে কসোভো। গাণিতিকভাবে সুইডেনের স্বপ্ন তখনই শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ফিফার নতুন নিয়মের জাল এবং উয়েফা নেশনস লিগ সুইডিশদের জন্য ত্রাতা হয়ে দাঁড়ায়।

নেশনস লিগের ‘ব্যাকডোর’ এন্ট্রি ২০২৬ বিশ্বকাপে ৪৮টি দেশ খেলবে, যার ফলে যোগ্যতামানের নিয়মে এসেছে বড় বদল। মূল বাছাইপর্বে ব্যর্থ হলেও ইউরোপের দেশগুলোর জন্য সুযোগ ছিল ২০২৪-২৫ উয়েফা নেশনস লিগের পারফরম্যান্স। সুইডেন নেশনস লিগে দুর্দান্ত পারফর্ম করায় তারা অতিরিক্ত চারটি প্লে-অফ স্পটের একটি ছিনিয়ে নেয়। একেই ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিশ্বকাপের মূলপর্বে ওঠার ‘ব্যাকডোর’ বা পেছনের দরজা।

প্লে-অফে রুদ্রমূর্তি এবং গায়কোরেস ম্যাজিক ম্যানেজার গ্রাহাম পোট্টারের অধীনে এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি সুইডেন। প্লে-অফের সেমিফাইনালে স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় তারা শক্তিশালী ইউক্রেনকে ৩-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয়। ভিক্টর গায়কোরেস করেন চোখ ধাঁধানো হ্যাটট্রিক। এরপর নাটকীয় ফাইনালে স্টকহোমের স্ট্রবেরি অ্যারেনায় পোল্যান্ডের মুখোমুখি হয় তারা। লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি, কিন্তু ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে সেই গায়কোরেসই জয়সূচক গোল করে সুইডেনকে ৩-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন। টানা দুই ম্যাচে ৪ গোল করে তিনি এখন সুইডেনের নতুন নায়ক।

৮ বছর পর প্রত্যাবর্তন ও বিতর্ক ২০১৮ সালের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট সুইডেন গত কাতার বিশ্বকাপে দর্শক হয়েই ছিল। দীর্ঘ ৮ বছর পর তারা ফিরছে বিশ্বমঞ্চে। এবার গ্রুপ ‘এফ’-এ তাদের লড়তে হবে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে। তবে সুইডেনের এই উত্তরণ ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, বাছাইপর্বে একটিও ম্যাচ না জিতে বিশ্বকাপে খেলা টুর্নামেন্টের গুণমান কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে ফিফার দাবি, নতুন ফরম্যাট ফুটবলকে আরও প্রতিযোগিতামূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলছে। বিতর্ক যাই থাক, পোট্টারের ছেলেরা কিন্তু এখন আমেরিকার স্বপ্ন দেখছে।