কোথায় মোজতবা খামেনেই? ক্ষমতা দখলের ১ মাস পরেও রহস্যময় নিভৃতবাস, মুখ খুলল রাশিয়া

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস কেটে গেলেও এখনও জনসমক্ষে আসেননি মোজতবা খামেনেই। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর তাঁর ৫৬ বছর বয়সী পুত্র মোজতবা গদিতে বসেন। কিন্তু দীর্ঘ এই অনুপস্থিতি তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অজস্র প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মাঝে মধ্যে কেবল তাঁর কিছু লিখিত বিবৃতি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পড়ে শোনানো হচ্ছে, যা রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।

অবশেষে এই জল্পনায় জল ঢেলে মুখ খুলেছে ক্রেমলিন। ইরানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেক্সি দেদোভ রুশ সংবাদমাধ্যম ‘আরটিভিআই’-কে জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনেই বর্তমানে ইরানেই রয়েছেন। তবে কিছু ‘সঙ্গত কারণে’ তিনি এখনই প্রকাশ্যে আসছেন না। আমেরিকার দাবি ছিল, সেই বিমান হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁর চেহারা ‘বিকৃত’ হয়ে গিয়েছে। এমনকি গুজব রটেছিল যে, পুতিনের আমন্ত্রণে চিকিৎসার জন্য তাঁকে মস্কো নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাশিয়ার এই বয়ান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ যুদ্ধের আবহেও তেহরানের পাশে দাঁড়িয়ে মস্কো বুঝিয়ে দিল তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক অটুট।

পর্দার আড়ালে থাকলেও দেশের কট্টরপন্থীদের উদ্দীপনায় কিন্তু ভাটা পড়েনি। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে মোজতবার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়—নেতা চোখের আড়ালে থাকায় রাষ্ট্র পরিচালনার রাশ আসলে কার হাতে? বিগত ৪০ বছর বাবার ছত্রছায়ায় থেকে পর্দার আড়াল থেকেই ক্ষমতা সামলেছেন মোজতবা। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইরানি প্রশাসনে হয়তো এখন ব্যক্তির চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং নিরাপত্তা বাহিনী। ক্ষমতার এই নতুন সমীকরণই হয়তো খামেনেইয়ের এই দীর্ঘ নিভৃতবাসের আসল কারণ।