ভোটের মুখে কমিশনের ‘বদলি রাজে’ সিলমোহর হাইকোর্টের! ধাক্কা খেল তৃণমূল সাংসদের জনস্বার্থ মামলা

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসকদল। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে আইপিএস, আইএএস এবং বিডিও-ওসি মিলিয়ে মোট ২৬৭ জন আধিকারিকের বদলির সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কমিশনের এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আদালত কোনও হস্তক্ষেপ করবে না।
মামলার শুনানিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ মিনার মতো আধিকারিক, যিনি সরাসরি নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁকে কেন তামিলনাড়ুতে বদলি করা হলো? কলকাতার পুলিশ কমিশনার বা জাভেদ শামিমের মতো অভিজ্ঞ কর্তাদের সরিয়ে দেওয়ায় রাজ্যে কোনও বিপর্যয় ঘটলে কে সামাল দেবে, সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। কল্যাণবাবুর সওয়াল ছিল, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া আর কোনও রাজ্যে এমন গণ-বদলির ঘটনা ঘটেনি এবং কমিশন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করছে। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তও কমিশনের এই ব্যাপক ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
পাল্টা যুক্তিতে নির্বাচন কমিশন এই জনস্বার্থ মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে। কমিশনের দাবি ছিল, একজন সরকারি প্যানেভুক্ত আইনজীবী এভাবে জনস্বার্থ মামলা করতে পারেন না। দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে আদালত কমিশনের সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখল। আদালতের এই রায়ের ফলে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশনের নেওয়া রদবদলের প্রক্রিয়াটি আইনি সিলমোহর পেল। এর ফলে আমলা ও পুলিশ মহলে যে ডামাডোল তৈরি হয়েছিল, তাতে আপাতত ইতি পড়ল এবং কমিশনের নির্দেশ মতোই আধিকারিকদের নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হবে।