পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগুন! কুয়েতে মৃত ২০ ভারতীয়র দেহ ফিরল দেশে, নেপথ্যে কি ইরানের ড্রোন হামলা?

পশ্চিম এশিয়ার আকাশ বর্তমানে যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা। ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার বলি হলেন কুয়েতে কর্মরত ২০ জন ভারতীয় নাগরিক। বুধবার তাঁদের নিথর দেহ বিশেষ বিমানে কেরলের কোচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মূলত যুদ্ধের কারণে আকাশপথের অচলাবস্থা এবং প্রশাসনিক জটিলতায় এই দেহগুলো দেশে ফেরাতে দীর্ঘ বিলম্ব হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিহতদের মধ্যে সবথেকে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তামিলনাড়ুর রামনাথপুরম জেলার মুথুকুলাথুরের বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী সান্থানসেলভাম কৃষ্ণানের। তিনি কুয়েতের একটি জল শোধনাগারে কর্মরত ছিলেন, যা সম্প্রতি এক ভয়াবহ ড্রোন হামলার শিকার হয়। বাকি ১৯ জন ভারতীয় নাগরিক বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও স্বাভাবিক কারণে মারা গেলেও, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ধারাবাহিক হামলার জেরে তৈরি হওয়া অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তাঁদের দেহগুলো এতদিন আটকে ছিল।

বিদেশ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব অসীম মহাজন জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করেছে এবং এখনও পর্যন্ত মোট আটজন ভারতীয় নাগরিক এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন। একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর। মহাজন আরও যোগ করেন, “একজন ভারতীয় নাগরিকের ড্রোন হামলায় মৃত্যু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের মিশন স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ রেখে চলেছে যাতে প্রতিটি পরিবার দ্রুত তাঁদের পরিজনদের শেষবারের মতো দেখতে পান।”

কুয়েতের বিদ্যুৎ ও জল মন্ত্রক সূত্রে খবর, গত রবিবার সন্ধ্যায় একটি বড় বিদ্যুৎ ও জল বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যার পেছনে ইরানের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেই হামলাতেই কৃষ্ণানের মৃত্যু হয়। ভারতীয় দূতাবাস ইতিমধ্যেই শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থিরতা এবং ভারতীয় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বর্তমানে প্রবল উদ্বেগে রয়েছে নয়াদিল্লি।