ভিডিও করতে ব্যস্ত ভিড়, প্রকাশ্য রাস্তায় দুই সন্তানের মাকে গণধর্ষণের চেষ্টা! বিহারের ঘটনায় স্তম্ভিত দেশ

বিহারের নালন্দা জেলায় এক বিবাহিত মহিলাকে প্রকাশ্য রাস্তায় শ্লীলতাহানি, নৃশংস হেনস্থা এবং গণধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি গত ২৬ মার্চের হলেও, মঙ্গলবার এই পৈশাচিক ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শিউরে উঠেছে সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, দুই সন্তানের জননী ওই মহিলা মুদিখানার জিনিস কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে নাসিকে থাকেন। অভিযোগ, গ্রামের রাস্তাতেই তিন যুবক তাঁর পথ আটকায়। এরপর তাঁকে জনসমক্ষেই টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। অশালীন গালিগালাজ করতে করতে অভিযুক্তরা তাঁকে গণধর্ষণের চেষ্টা চালায়। মহিলাটি চিৎকার করে সাহায্যের আবেদন জানালেও হামলাকারীরা থামেনি। সবথেকে লজ্জাজনক বিষয় হলো, ঘটনাস্থলে ভিড় জমে গেলেও কেউ তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। উল্টে বহু মানুষ মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনাটির ভিডিও রেকর্ড করতে ব্যস্ত ছিলেন। প্রায় ৪২ সেকেন্ডের ভাইরাল ক্লিপে দেখা যায়, মহিলাটি নিজেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, কিন্তু অভিযুক্তরা তাঁকে জাপটে ধরে নিগ্রহ চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি অভিযুক্তদের একজনকে বলতে শোনা যায়, “ভিডিও করতে থাকো”।
ঘটনার পরদিন, ২৭ মার্চ নির্যাতিতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। নালন্দার এসপি ভরত সোনি জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সদর ডিএসপি ২ সঞ্জয় কুমার জয়সওয়ালের নেতৃত্বে একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) গঠন করা হয়। পুলিশি অভিযানে অশোক যাদব এবং মতলু মাহাতো নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছে। রবিকান্ত কুমার নামে তৃতীয় অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এসপি আরও জানান, পুরনো কোনো শত্রুতার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও তদন্তে অন্য একটি কোণও উঠে এসেছে—প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে যে ওই মহিলার সাথে গ্রামের অন্য এক যুবকের সম্পর্ক ছিল এবং ২৬ মার্চের ঘটনার ঠিক আগে তাঁদের কোনো পরিস্থিতিতে দেখা গিয়েছিল। তবে যাই হোক না কেন, এই বর্বরোচিত নিগ্রহের কোনো ক্ষমা নেই বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিহারে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। লালু প্রসাদ যাদবের মেয়ে রোহিনী আচার্য নীতীশ কুমার সরকারের তীব্র সমালোচনা করে রাজ্যের মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিহারের এই ঘটনা আধুনিক সভ্য সমাজের মুখে এক বড় চুনকালি লেপে দিয়েছে।