নন্দীগ্রামের পর কি এবার ভবানীপুর? মমতাকে হারানো নিয়ে সুকান্ত মজুমদারের বিস্ফোরক ইন্টারভিউ!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়ছে বাংলার প্রতিটি কোণায়। তবে সব নজর এখন দক্ষিণ কলকাতার হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরের দিকে। একদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিজেপির হেভিওয়েট যোদ্ধা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর গড়ে শুভেন্দু কতটা দাগ কাটতে পারবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এই আবহে ‘নিউজ ১৮ বাংলা’-র মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

মমতাকে হারানো কি সম্ভব?
সাক্ষাৎকারে সুকান্ত মজুমদারকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, ভবানীপুরে কি শুভেন্দু অধিকারী সত্যিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে পারবেন? আত্মবিশ্বাসের সুরে সুকান্তের জবাব, “কেন হারাতে পারবেন না? যদি নন্দীগ্রামে হারিয়ে ইতিহাস গড়তে পারেন, তবে ভবানীপুরেই বা নয় কেন? বাংলার মানুষ পরিবর্তনের জন্য তৈরি, শুধু ফল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।”

শুভেন্দুর ‘ডবল’ লড়াই ও অভিষেকের ‘ভয়’:
শুভেন্দু অধিকারীকে একইসঙ্গে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— এই দুই কেন্দ্রে প্রার্থী করা কি বিজেপির ‘রাজনৈতিক হারাকিরি’? এই প্রশ্নের উত্তরে সুকান্ত জানান, এটি দলের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। তাঁর দাবি, “নন্দীগ্রামের চেয়েও ভবানীপুরের ডেমোগ্রাফি বা জনবিন্যাস বিজেপির জন্য অনেক বেশি অনুকূল।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা তো ভেবেছিলাম নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী হবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তিনি ভয় পেলেন। তাই তড়িঘড়ি আমাদেরই এক পুরনো কর্মীকে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করালেন। আমরা প্রস্তুত ছিলাম দুই হেভিওয়েটের লড়াই দেখতে।”

তৃণমূলের পাল্টা কৌশল:
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের মার্জিন এবার আগের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে। নন্দীগ্রামের পরাজয়ের শোধ নিতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারীকে দুই কেন্দ্রে আটকে রাখা আসলে বিজেপির একটি কৌশলী চাল যাতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিজেদের গড়েই বেশি সময় দিতে হয়। তবে সুকান্তর দাবি অনুযায়ী, ভবানীপুরের লড়াই এবার কেবল সম্মানের নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হতে চলেছে।