‘বিজেপি করলে বাড়ির সামনে পোস্টার ঝোলানো হবে!’ মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে তোলপাড়, কড়া পদক্ষেপের আর্জি

ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক ভাষণ এবং নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি (MCC) লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) দ্বারস্থ হল ভারতীয় জনতা পার্টি। গত ৩১ মার্চ বিজেপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কাছে এই মর্মে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।

অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু:
বিজেপির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক জনসভাগুলোতে ভোটারদের ভয় দেখানো এবং সরাসরি হিংসায় উস্কানি দেওয়ার মতো মন্তব্য করেছেন। স্মারকলিপিতে তিনটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে:

ময়নাগুড়ি (২৫ মার্চ): অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন নির্বাচনের পর বিজেপি সমর্থকদের বাড়ির সামনে “আমি বিজেপি করি না” লেখা পোস্টার ঝোলাতে বাধ্য করা হবে। বিজেপি একে ভোটারদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

নকশালবাড়ি ও পাণ্ডবেশ্বর (২৫ ও ২৬ মার্চ): এই দুই জায়গায় মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের এবং সাধারণ মানুষকে “ঘরে যা আছে তাই নিয়ে বেরিয়ে পড়তে” এবং “প্রতিরোধ গড়তে” আহ্বান জানিয়েছেন। বিজেপির দাবি, এটি সরাসরি শারীরিক সংঘাতের ইঙ্গিত।

আইনি ধারা ও লঙ্ঘন:
স্মারকলিপিতে জানানো হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যগুলো জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫১-এর ১২৫ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ২০২৩-এর ১৯৩ ও ৩৫৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এর ফলে বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি হতে পারে এবং জনমনে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

কমিশনের কাছে বিজেপির ৬টি দাবি:
১. প্রচারে নিষেধাজ্ঞা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বর্তমান নির্বাচনী প্রচার থেকে নিষিদ্ধ (Debar) করা।
২. আইনি পদক্ষেপ: তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এফআইআর (FIR) দায়ের করা।
৩. কেন্দ্রীয় বাহিনী: স্পর্শকাতর এলাকায় পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা।
৪. পর্যবেক্ষক নিয়োগ: স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পশ্চিমবঙ্গ বহির্ভূত আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা।
৫. ফর্ম-৬ সংক্রান্ত জটিলতা: ভোটার তালিকায় নাম তোলার ফর্ম-৬ জমা নিতে আধিকারিকরা অস্বীকার করছেন বলে অভিযোগ, যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে।

এই অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষর করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, ডঃ মহেশ শর্মা ও শিশির বাজোরিয়া। এখন দেখার, এই হাই-ভোল্টেজ অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়।