TMC-ঘনিষ্ঠ সোনা পাপ্পুর বাড়িতে ED, কোটি কোটি টাকা তোলার অভিযোগ

সাতসকালে শহর কলকাতায় ফের সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের নজরে শাসকদলের অতি-ঘনিষ্ঠ প্রোমোটার বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। বুধবার সকাল থেকেই কসবার সুইনহো লেনের সেই বিখ্যাত ‘জাহাজ বাড়ি’ ঘিরে ফেলেছে ইডি আধিকারিকরা। একইসঙ্গে তল্লাশি চালানো হচ্ছে তাঁর সংস্থাতেও। ফ্ল্যাট হস্তান্তরের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বেআইনি নির্মাণকাণ্ডে তাঁর নাম জড়িয়েছে বলে খবর।
কে এই সোনা পাপ্পু?
এক সময় বাবার সোনার দোকানে কাজ করা ছেলেই আজ কসবা, ঢাকুরিয়া ও রামলাল বাজার এলাকার একচ্ছত্র অধিপতি। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘ত্রাস’ হিসেবেই পরিচিত। সোনা পাপ্পুর উত্থানের কাহিনি হার মানাবে সিনেমার চিত্রনাট্যকেও।
-
সিন্ডিকেট রাজের শুরু: তৃণমূল জমানার শুরুতে তৎকালীন ব্লক সভাপতি বিজনলাল মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে কাটাপুকুর এলাকায় সিন্ডিকেট ব্যবসার হাতেখড়ি।
-
হেভিওয়েট ঘনিষ্ঠতা: বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা বিধায়ক দেবাশিস কুমারের অত্যন্ত বিশ্বস্ত অনুগামী হিসেবে পরিচিত এই পাপ্পু। এমনকি মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
অভিযোগের পাহাড়
সোনা পাপ্পু ও তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের বয়ান অনুযায়ী:
-
ভোটের ময়দানে দাপট: পুরভোট হোক বা বিধানসভা—বিরোধী এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়া বা বুথে ঢুকতে না দেওয়াই ছিল পাপ্পু বাহিনীর প্রধান কাজ।
-
বেআইনি নির্মাণ: কলকাতা পুরসভার ৬৭ ও ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০-৫৫টি বেআইনি ফ্ল্যাট তৈরির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
-
ক্রিমিনাল রেকর্ড: শুধু আর্থিক দুর্নীতি নয়, সোনা পাপ্পুর নাম এর আগে খুনের মামলাতেও জড়িয়েছিল।
রাজনৈতিক যোগসূত্রে অস্বস্তি
সম্প্রতি রাসবিহারীর বিধায়ক দেবাশিস কুমারকে ইডি তলব করেছিল। সিজিও কমপ্লেক্সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল তাঁকে। তাঁর সেই ‘ঘনিষ্ঠ’ সোনা পাপ্পুর বাড়িতে হানা দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সোনা পাপ্পুকে জেরা করেই দেবাশিস কুমার বা শাসকদলের আরও বড় কোনো নেতার দুর্নীতির হদিস পেতে চাইছে ইডি?