“যতই দাও ক্যাশ, পাবে নাকো ভোট!” ভোটের মুখে ‘নোট’-এর রাজনীতি রুখতে রণংদেহি মমতা

আকাশের মুখ ভার, ঝিরঝিরে বৃষ্টি— কিন্তু রাজনীতির ময়দান তপ্ত। লোকসভা ভোটের দামামা বাজতেই মেদিনীপুরের মাটি থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ও গড়বেতার জনসভা থেকে দলের কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর সাফ বার্তা, “লোভ সংবরণ করুন। পাপীদের থেকে ক্যাশ নেবেন না, তাতে চরিত্র নষ্ট হবে।”

টাকা ও আদর্শের লড়াই: গড়বেতার মঞ্চ থেকে এদিন কেন্দ্রীয় শাসকদলের ‘অর্থশক্তি’কে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “ভোটের মুখে অনেকে টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে। কিন্তু মনে রাখবেন, ওই নোট নিলে সারাজীবন পস্তাতে হবে। আদর্শ বিসর্জন দেবেন না।” তাঁর স্লোগান ছিল স্পষ্ট— “যতই দাও ক্যাশ, যতই দাও নোট, পাবে নাকো ভোট।”

ভোটার তালিকা ও এনআরসি আতঙ্ক: এদিন এনআরসি এবং ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে মোদী সরকারকে তুলোধোনা করেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, “ভোটের ঠিক তিন মাস আগে চালাকি করে এসআইআর করা হয়েছে। আমরা যদি লড়াই না করতাম, তবে ৫ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে যেত।” সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি জানান, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকতে বাংলায় কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে না।

মাওবাদী সন্ত্রাস ও উন্নয়নের কার্ড: অতীতের স্মৃতি উসকে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন গড়বেতার এক সময়ের রক্তক্ষয়ী রাজনীতির কথা। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারই এই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়েছে। বিজেপি এলে ফের ‘বন্দুকের রাজনীতি’ শুরু হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। উন্নয়নের খতিয়ান দিতে গিয়ে তিনি ঘোষণা করেন ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ প্রকল্পের কথা। এখন থেকে শুধু চিকিৎসক নয়, এক্স-রে মেশিন-সহ আধুনিক পরীক্ষার সরঞ্জামও পৌঁছে যাবে মানুষের দোরগোড়ায়।

গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রুখতে কড়া বার্তা: দলের অন্দরের কোন্দল নিয়েও এদিন কড়া সুর শোনা যায় মমতার গলায়। নারায়ণগড়ের সভার রেশ টেনে এদিনও তিনি স্পষ্ট করে দেন, এলাকায় কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বরদাস্ত করা হবে না। সবাইকে একজোট হয়ে লড়াই করার নির্দেশ দেন তিনি। আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই সভা শেষ করে হেলিকপ্টারে বিষ্ণুপুরের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।