নিজের মৃত্যু কি আগেই টের পেয়েছিলেন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়? ডাবিং স্টুডিওর সেই হাড়হিম করা মুহূর্ত!

লোকমুখে প্রচলিত আছে, মানুষ নাকি নিজের মৃত্যুর পদধ্বনি আগে থেকেই শুনতে পায়। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও কি তেমনটাই ঘটেছিল? তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া যখন স্মৃতি হাতড়াচ্ছে, তখনই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পরিচালক সৌভিক দের আগামী ছবি ‘ICU’-র ডাবিং করতে গিয়ে নিজের মৃত্যু নিয়ে এক অদ্ভুত ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন রাহুল। যা আজ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় স্তম্ভিত তাঁর সহকর্মী ও অনুরাগীরা।

ডাবিং স্টুডিওতে কী ঘটেছিল? পরিচালক সৌভিক দে ইটিভি ভারতকে জানিয়েছেন, ধারাবাহিকের শুটিংয়ে যাওয়ার মাত্র দু’দিন আগেই রাহুল তাঁর নতুন ছবি ‘ICU’-র ডাবিং শেষ করেছিলেন। সেই সময় আড্ডার ছলে রাহুল বলেছিলেন, “এটা হয়তো আমার শেষ ছবি। তোরা কি বুঝবি?…” পরিচালক জানান, তখন কথাটি হাসির ছলে উড়িয়ে দিলেও আজ সেই বাক্যটিই বারবার কানে বাজছে। কেউ কল্পনাও করতে পারেননি যে মজা করে বলা কথাটি এভাবে মর্মান্তিক বাস্তবে পরিণত হবে।

সহকর্মীর চোখে রাহুল: শোকাতুর পরিচালক সৌভিক বলেন, “বিশ্বাস করা খুবই কঠিন যে মানুষটা আজ নেই। রাহুল দা শুধু একজন অসাধারণ অভিনেতাই ছিলেন না, সেটে তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল এক অদ্ভুত এনার্জি। এই ছবিটার প্রতি ওঁর একটা আলাদা আবেগ ছিল। ব্যক্তিগতভাবে আমি একজন পথপ্রদর্শককে হারালাম।” ছবিতে রাহুলের সঙ্গে অভিনয় করেছেন শ্রীলেখা মিত্র, শ্রীমা ভট্টাচার্য এবং আরিয়ান ভৌমিকের মতো তারকারা।

ছবির গল্প ও রাহুলের চরিত্র: অভিষেক ভট্টাচার্যর কাহিনী ও চিত্রনাট্যে তৈরি ‘ICU’ মূলত একটি থ্রিলার-কমেডি ঘরানার ছবি। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি ছেলে, যারা বাড়িওয়ালার হাত থেকে বাঁচতে একটি প্র্যাঙ্ক বা মজা করে। সেই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই তারা নিজেদের ‘অতিপ্রাকৃত বিষয় বিশেষজ্ঞ’ বা প্যারানরমাল ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করে। কিন্তু একটি মিথ্যে কীভাবে তাদের জীবন ও বিবেককে সংকটের মুখে ফেলে দেয়, তা নিয়েই এগোবে ছবির গল্প। রাহুলের এই শেষ কাজটিই এখন তাঁর স্মৃতি হয়ে পর্দার ফ্রেমে থেকে যাবে।