“মাটির গভীরে গিয়ে বিস্ফোরণ!”-শক্তিশালী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমায় ধুলোয় মিশল ইরানের অস্ত্রাগার, বড় যুদ্ধের শুরু?

মঙ্গলবার ভোরে এক ভয়াবহ সামরিক অভিযানের সাক্ষী থাকল ইরান। তেহরানের সবথেকে সুরক্ষিত এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু ও সামরিক কেন্দ্র ইসফাহান কেঁপে উঠল একের পর এক বিধ্বংসী বিস্ফোরণে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হামলায় আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিয়েছে ইজরায়েলি বায়ুসেনা। এই যৌথ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’

লক্ষ্য যখন ইরানের পরমাণু ভাণ্ডার

সূত্রের খবর, ইরানের মাটির নিচে লুকানো বিশাল এক অস্ত্রাগার এবং পরমাণু গোলা-বারুদ তৈরির কারখানাকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও পশ্চিমি দেশগুলোর মধ্যে যে উত্তেজনা চলছিল, এই অভিযান তাকে এক চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেল।

বিধ্বংসী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমার ব্যবহার

এই অভিযানের সবথেকে আতঙ্কজনক দিক হলো আধুনিক প্রযুক্তির ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমার ব্যবহার। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে:

  • এই বোমাগুলোর ওজন প্রায় ৯০০ কেজি (২০০০ পাউন্ড)

  • এগুলি সাধারণ বোমার মতো মাটিতে পড়ামাত্র ফাটে না, বরং মাটির কয়েক ফুট গভীরে বা কংক্রিটের কয়েক স্তর ভেদ করে ভেতরে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়।

  • মাটির নিচে সুরক্ষিত ইরানের যে পরমাণু কেন্দ্রগুলো সাধারণ মিসাইল দিয়ে ধ্বংস করা অসম্ভব ছিল, সেগুলিকে গুঁড়িয়ে দিতেই এই বিশেষ মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইজরায়েল ও আমেরিকা।

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের সিঁদুরে মেঘ

এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। ইসফাহানের আকাশে এখনও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে। পেন্টাগন বা ইজরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি না এলেও, এই হামলা যে ইরানের সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার একটি বড় প্রচেষ্টা, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, তেহরান এই ‘এপিক ফিউরি’-র জবাবে পালটা কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না।