“বাইকে করে হলেও ভোট দিতে যাব”…২৬ শে মমতার গড়ে কি এবার হবে মোদীর হানা?

বাংলায় বেজে গিয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভাগ্য নির্ধারণ হবে রাজ্যের। আর ৪ মে ফলাফলই বলে দেবে নবান্নের তখত কার দখলে থাকবে। তৃণমূল, বিজেপি না কি কংগ্রেস— লড়াই যখন তুঙ্গে, তখন সুদূর গুজরাতের সুরাত থেকে বাংলার রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল এক বড়সড় ঢেউ।
সাড়ে তিন লক্ষ বাঙালির বাস এই সুরাতে। পেটের দায়ে ভিটেমাটি ছেড়ে ২০০০ কিলোমিটার দূরে পড়ে থাকা এই মানুষগুলো এবার একযোগে চাইছেন ‘পরিবর্তন’।
“মমতা নিজে চপ্পল পরেন, আমাদেরও তাই পরাতে চান!”
আজ তক-এর প্রতিনিধি দলের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সুরাতের মিল্টন দে। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার আমাদের সর্বনাশ করেছে। তিনি নিজে চপ্পল পরেন এবং চান আমরাও যেন সারাজীবন চপ্পলই পরি। আমরা এবার মোদীকে ক্ষমতায় দেখতে চাই।” জেদের বশে মিল্টন আরও জানান, সাইকেল হোক বা বাইক— যেভাবেই হোক ভোট দিতে তারা বাংলায় পৌঁছাবেনই।
কেন বাংলা ছাড়তে হলো? আক্ষেপ প্রবাসীদের
সুরাতের অলিতে-গলিতে থাকা বাঙালিদের দীর্ঘশ্বাস এখন একটাই— কাজ নেই বাংলায়। রাকেশ ঘোষ নামের এক শ্রমিকের কথায়, “ওখানে কোনও কাজ নেই বলেই আমরা এত দূরে এসেছি। আমরা চাই মোদীজি এসে বাংলাকেও সুরাতের মতো উন্নত করে তুলুন।” একই সুর শোনা গেল প্রদীপ মাইতির গলায়। রাজনীতি বিশেষ না বুঝলেও, তিনি সাফ জানালেন, যা পরিস্থিতি তাতে রাজ্যে বদল আসা দরকার।
সাড়ে ৩ লক্ষ ভোটারের ‘ঘর ওয়াপসি’র স্বপ্ন
সুরাতের হীরা কাটিং থেকে টেক্সটাইল— সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছেন বাঙালিরা। তাঁদের বড় অংশই চাইছে নিজের রাজ্যে ফিরে পরিবারের সঙ্গে থেকে রোজগার করতে। কিন্তু কর্মসংস্থানের অভাবে তারা আজ ‘যাযাবর’। এই প্রবাসীদের ভোট এবার বাংলার নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।