“ইজরায়েলের ট্র্যাপে পড়েছেন ট্রাম্প!”-হরমুজ সঙ্কট আরও জটিল, জেনেনিন এবার কী হবে?

ইরান যুদ্ধের বয়স মাত্র ৫ সপ্তাহ। এর মধ্যেই মার্কিন রণকৌশলে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত। একদিকে যখন ‘অপারেশন ফিউরি’র তীব্রতা বাড়ছে, অন্যদিকে ঠিক তখনই ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ)-এর একটি রিপোর্ট বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সামরিক অভিযান দ্রুত গুটিয়ে নিতে চাইছেন। এমনকি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’র নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পুনরুদ্ধার না করেই যুদ্ধ শেষ করতে পারে ওয়াশিংটন।

কেন তাড়াহুড়ো করছেন ট্রাম্প?

রিপোর্টে এক শীর্ষ মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নামলে আমেরিকা এক দীর্ঘমেয়াদী জটিলতায় জড়িয়ে পড়তে পারে। ট্রাম্প চাইছেন না এই যুদ্ধ মাসের পর মাস টেনে নিয়ে যেতে। আপাতত তেহরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়াই আমেরিকার ‘ফাইনাল স্ট্র্যাটেজি’। এরপর কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে বাণিজ্যিক পথ খুলে দিতে বাধ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে হোয়াইট হাউসের।

সেনা মোতায়েন বনাম যুদ্ধ বিরতি: বৈপরীত্য কোথায়?

তবে ট্রাম্পের এই ‘দ্রুত প্রস্থান’-এর তত্ত্বের সঙ্গে রণক্ষেত্রের বাস্তবচিত্র মেলাতে পারছেন না সামরিক বিশেষজ্ঞরা। কারণ:

  • গত সপ্তাহান্তেই ইউএসএস ট্রিপোলি-সহ প্রায় ২,৫০০ নৌসেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।

  • আরও ১০,০০০ স্থলসেনা পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্পের।

  • ইরানের ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার কব্জায় নিতে একটি অত্যন্ত জটিল মিশনের প্রস্তুতিও চলছে সমান্তরালে।

মিত্রদেশদের ওপর দায় ঠেলবে আমেরিকা?

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট স্পষ্ট করেছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন ট্রাম্পের অগ্রাধিকার নয়। যদি আমেরিকার নিজস্ব কৌশলে কাজ না হয়, তবে ওয়াশিংটন চাইবে ইউরোপ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলো যেন এই নৌপথ খোলার দায়িত্ব নেয়।

মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও আত্মবিশ্বাসের সুরে জানিয়েছেন, “সামরিক অভিযান শেষ হলেই হরমুজ খুলে যাবে। হয় ইরান আন্তর্জাতিক আইন মানবে, নয়তো বিশ্বশক্তির জোট তাদের বাধ্য করবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প আসলে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে আমেরিকার শক্তিক্ষয় করতে চাইছেন না। বরং ইরানকে সামরিকভাবে দুর্বল করে দিয়ে বল এখন তেহরানের কোর্টেই ঠেলে দিতে চাইছেন তিনি।