৩১ মার্চের ডেডলাইন: আজ রাত ১২টার আগে এই ৬টি কাজ না করলে পকেট ফাঁকা হতে বাধ্য!

২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের আজই শেষ দিন। ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ৩১ মার্চ, ২০২৬। সাধারণ মানুষের কাছে এটি কেবল একটি তারিখ হলেও, করদাতা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা। আজকের রাত ১২টা বাজার আগেই আপনার আর্থিক জীবনের বেশ কিছু জরুরি কাজ সেরে ফেলা প্রয়োজন। অন্যথায়, নতুন আর্থিক বছরের শুরুতেই আপনাকে করের বোঝা, চড়া সুদ কিংবা জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

১. অগ্রিম কর (Advance Tax) নিয়ে সতর্ক হোন:
আপনার বার্ষিক মোট প্রদেয় করের পরিমাণ যদি ১০,০০০ টাকার বেশি হয়, তবে নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে অগ্রিম কর জমা দিতে হবে। অনেকেই এই বিষয়টি বছরের শেষ দিন পর্যন্ত ফেলে রাখেন। মনে রাখবেন, আজকের মধ্যে নির্দিষ্ট মেয়াদে অগ্রিম কর জমা না করলে আয়কর আইনের ২৩৪বি এবং ২৩৪সি ধারা অনুযায়ী আপনাকে মাসিক হারে সুদ গুনতে হতে পারে। তাই দ্রুত আপনার আয়ের হিসাব করুন এবং বকেয়া কর মিটিয়ে দিন।

২. কর সাশ্রয়ের অন্তিম লগ্ন:
আপনি যদি এখনও পুরনো কর কাঠামো বা ওল্ড ট্যাক্স রেজিম মেনে চলেন, তবে হাতে সময় মাত্র কয়েক ঘণ্টা। ধারা ৮০সি-র অধীনে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পেতে পিপিএফ (PPF), ইএলএসএস (ELSS), জীবন বিমা বা এনএসসি-তে বিনিয়োগের এটাই শেষ সুযোগ। পাশাপাশি এনপিএস (NPS) বা স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়াম জমা দিয়েও অতিরিক্ত কর ছাড় নিশ্চিত করতে পারেন।

৩. চাকরি পরিবর্তনের তথ্য প্রদান:
চলতি আর্থিক বছরে যদি আপনি কর্মস্থল পরিবর্তন করে থাকেন, তবে বর্তমান সংস্থাকে আপনার পূর্ববর্তী বেতনের বিশদ বিবরণ (Form 12B) প্রদান করুন। এটি না করলে আপনার ট্যাক্স ক্যালকুলেশনে গড়মিল হতে পারে, যার ফলে আইটিআর (ITR) ফাইল করার সময় বড় অঙ্কের অতিরিক্ত কর দিতে হতে পারে।

৪. পিপিএফ ও সুকন্যা সমৃদ্ধি অ্যাকাউন্ট:
আপনার বা আপনার সন্তানের নামে পিপিএফ কিংবা সুকন্যা সমৃদ্ধি অ্যাকাউন্ট থাকলে তাতে ন্যূনতম বার্ষিক জমা নিশ্চিত করুন। ন্যূনতম টাকা জমা না পড়লে অ্যাকাউন্টটি ‘ডিসকন্টিনিউড’ বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। পরে তা সক্রিয় করতে জরিমানার পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাতে হবে।

৫. মূলধন লাভ ও লোকসান (Tax Loss Harvesting):
শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ থাকলে আপনার লাভ-ক্ষতির খতিয়ান দেখে নিন। কোনো ক্ষেত্রে বড় লাভ হয়ে থাকলে, অন্য কোনো লোকসানি শেয়ার বিক্রি করে সেই লস ‘সেট অফ’ করার সুযোগ আজই শেষ। এতে আপনার সামগ্রিক করের দায় অনেকটাই কমে যাবে।

৬. এমএসএমই (MSME) পেমেন্ট ও ব্যবসায়িক সতর্কতা:
ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের বকেয়া মেটানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। ৪৫ দিনের মধ্যে পাওনা না মেটালে সেই খরচ কর ছাড়ের আওতায় আসবে না, যা প্রকারান্তরে আপনার করযোগ্য আয় বাড়িয়ে দেবে। তাই ব্যবসার সমস্ত বকেয়া আজই যাচাই করে নিন।