সঙ্কটের সুযোগে লুটতরাজ! দিল্লিতে রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে ২২টি এফআইআর

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ভারতে সৃষ্টি হওয়া জ্বালানি সঙ্কটকে হাতিয়ার করে শুরু হয়েছে অসাধু কারবার। রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগকে কাজে লাগিয়ে চড়া দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এই কালোবাজারি রুখতে রাজধানী দিল্লিতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। জানা গেছে, শুধুমাত্র মার্চ মাসেই দিল্লিতে ১,৭১০টি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং দায়ের করা হয়েছে ২২টি এফআইআর।

দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২৬ মার্চের মধ্যে দিল্লিতে ৭৬টি ঝটিকা অভিযান চালানো হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে। তবে শুধু দিল্লি নয়, গোয়া, উত্তরপ্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর ও কেরালা সহ একাধিক রাজ্যে ১২,০০০-এর বেশি অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫,০০০ সিলিন্ডার উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযোগের তির মূলত গ্যাস ডিলার ও ডেলিভারি বয়দের দিকে, যারা গৃহস্থালীর গ্যাস চড়া দামে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে পাচার করছিল।

সরকারের কড়া বার্তা: প্যানিক বাইং বন্ধ করুন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম সচিব নীরজ মিত্তল জানিয়েছেন, দেশে যথেষ্ট পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে। সাধারণ মানুষকে ‘প্যানিক বাইং’ বা আতঙ্কিত হয়ে সিলিন্ডার মজুত না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শহরাঞ্চলে ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিনের ব্যবধানে সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। পাশাপাশি, যাদের বাড়িতে পাইপলাইন গ্যাস (PNG) সংযোগ রয়েছে, তাদের এলপিজি সিলিন্ডার ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিকল্প জ্বালানিতে জোর ও শুল্ক হ্রাস সঙ্কট সামাল দিতে ২০২২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া কেরোসিন সরবরাহ পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রেশন দোকানের মাধ্যমে রান্নার জন্য কেরোসিন বিলি করা হবে। এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২২ ডলারে পৌঁছানোয় সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে পেট্রোল ও ডিজেলে লিটার প্রতি ১০ টাকা শুল্ক কমিয়েছে কেন্দ্র। যদিও খুচরো বাজারে দাম এখনই কমছে না, তবে রফতানি শুল্ক বাড়িয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।