ইরানকে ‘কফিনবন্দি’ করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের! তেল খনি থেকে দ্বীপ—সব উড়িয়ে দেওয়ার চরম আলটিমেটাম

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনার পারদ এবার সপ্তমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ইরানকে এক নজিরবিহীন ও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—যদি তেহরান অবিলম্বে ‘হরমুজ প্রণালী’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুলে না দেয় এবং আমেরিকার শর্ত মেনে চুক্তিতে না আসে, তবে ইরানের তেল খনি, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘খার্গ দ্বীপ’ পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্ট ও প্রতিশোধের সুর: নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, আলোচনার মাধ্যমে অগ্রগতির সম্ভাবনা থাকলেও ইরান যদি দেরি করে, তবে আমেরিকা আর অপেক্ষা করবে না। তিনি সরাসরি হুমকি দিয়েছেন যে, ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো এবং লবণাক্ততা দূরীকরণ (Desalination) কেন্দ্রগুলি—যাকে এতদিন আমেরিকা স্পর্শ করেনি—সেগুলো এবার মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে। ট্রাম্পের মতে, এটি গত ৪৭ বছরের ‘ইরানি সন্ত্রাস’ ও মার্কিন কর্মীদের হত্যার চরম প্রতিশোধ হবে।
চুক্তি বনাম সামরিক দখলদারি: আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা স্থগিত রেখেছে ওয়াশিংটন। কিন্তু ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, এই সময়ের মধ্যে সমাধান না মিললে মার্কিন মেরিন সেনারা খার্গ দ্বীপের দখল নিতে পারে। তিনি বলেন, “হয়তো আমরা দ্বীপটি দখল করব, হয়তো করব না। আমাদের হাতে অনেক বিকল্প খোলা আছে।” ইতিমধ্যেই প্রায় ২,৫০০ মার্কিন মেরিন সেনা ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে এবং সমসংখ্যক সেনা পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ইরানের অনড় অবস্থান: আমেরিকা আলোচনার কথা বললেও ইরান সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের কালিবাফ জানিয়েছেন, মার্কিন প্রস্তাবগুলো ‘অবাস্তব ও অযৌক্তিক’। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার জল্পনা চললেও, ইরান একে এই অঞ্চলে মার্কিন সেনা মোতায়েনের ‘অজুহাত’ বলে মনে করছে। যদিও চাপের মুখে পড়ে সোমবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে ২০টি তেল ট্যাঙ্কার চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তেহরান, তবে বড় যুদ্ধের মেঘ এখনও কাটেনি।