মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের লেলিহান শিখা! ইরানি ড্রোন হামলায় কুয়েতে ভারতীয় শ্রমিকের মৃত্যু, বাড়ছে আতঙ্ক

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ৩০শে মার্চ, ২০২৬—সোমবার সকালে কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জল শোধন কেন্দ্র বা ‘ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট’-এ ইরানের ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। কুয়েত সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় একটি সার্ভিস বিল্ডিং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে কর্মরত এক ভারতীয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ৭ থেকে ৮ জন ভারতীয় নাগরিক মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে ওমান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেও (UAE) একইভাবে ভারতীয়দের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল।
বিপজ্জনক অবস্থানে প্রবাসীরা: বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৯২ লক্ষ (৯.২ মিলিয়ন) ভারতীয় প্রবাসী বসবাস করেন। এদের মধ্যে একটি বড় অংশ নীল কলার শ্রমিক হিসেবে নির্মাণ, তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রে কর্মরত। ইরান ও ইসরায়েলের এই সংঘাত যত বাড়ছে, ততই এই বিশাল সংখ্যক প্রবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ইরান ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যেসব দেশ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি হোস্ট করবে, তাদের পরিকাঠামোতে (বিদ্যুৎ ও জল শোধন কেন্দ্র) হামলা চালানো হতে পারে।
ভারতের উদ্বেগ ও উদ্ধার তৎপরতা: কুয়েতে ভারতীয় দূতাবাস মৃত শ্রমিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং কুয়েত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই কুয়েত ও বাহরাইনের আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে বিকল্প পথে (সৌদি আরব হয়ে) নাগরিকদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করছে। ওমান ও সৌদি আরব থেকে বিমান চলাচল আংশিক স্বাভাবিক থাকলেও, পরিস্থিতির অবনতি হলে বড়সড় উদ্ধার অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।