CSK vs RR: বন্ধুত্বের উর্ধ্বে পেশাদারিত্ব! সিএসকে জার্সিতে সঞ্জুর করুণ অভিষেক, বার্গারের পেস আর রিয়ানের উল্লাস ভাইরাল

আইপিএল ২০২৬-এর মঞ্চে আজ এক অদ্ভুত আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল গুয়াহাটির বারসাপারা স্টেডিয়াম। দীর্ঘ ১১ বছর রাজস্থান রয়্যালসের ঘর আগলে রাখার পর এবার চেন্নাই সুপার কিংসের (CSK) হলুদ জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন সঞ্জু স্যামসন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করে আইপিএলে পা রাখা সঞ্জুকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখল ক্রিকেটবিশ্ব। যে দলের অধিনায়ক ছিলেন এতকাল, সেই রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধেই অভিষেক ম্যাচে মাত্র ৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন সঞ্জু।

বার্গারের বিষাক্ত ডেলিভারি ও সঞ্জুর ব্যর্থতা: ম্যাচের শুরু থেকেই টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রাজস্থানের নতুন অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। বৃষ্টির কারণে পিচ দীর্ঘক্ষণ কভারে ঢাকা থাকায় বোলাররা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছিলেন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার নন্দ্রে বার্গারের ১৪০.২ কিমি গতির একটি ইন-সুইঙ্গিং ডেলিভারি বুঝে ওঠার আগেই সঞ্জুর অফস্টাম্প ছিটকে দেয়। মাত্র ৭ বলে ১টি চার মেরে ৬ রানেই থামতে হয় তাঁকে। উল্লেখ্য, ২০২০ সাল থেকে আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে অন্তত একটি হাফ-সেঞ্চুরি করার যে রেকর্ড সঞ্জুর ছিল, এদিন তা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।

মাঠের বন্ধুত্ব বনাম লড়াই: সঞ্জু যখন আউট হয়ে মাথা নিচু করে ফিরছেন, ঠিক তখনই ক্যামেরার লেন্স ঘুরে যায় রাজস্থান অধিনায়ক রিয়ান পরাগের দিকে। গত বছর পর্যন্ত রিয়ান আর সঞ্জু ছিলেন অভিন্নহৃদয় বন্ধু। কিন্তু এদিন রিয়ানের চোখে ছিল শুধু জয়ের খিদে। সঞ্জুর উইকেট পড়ার পর রিয়ানকে যে আগ্রাসী মেজাজে সেলিব্রেশন করতে দেখা যায়, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের একাংশ বলছেন, “আইপিএলে জার্সি বদলালে বন্ধুত্বও যে বাউন্ডারির বাইরে চলে যায়, রিয়ানের উদযাপনই তার প্রমাণ।”

বিপর্যস্ত চেন্নাইয়ের টপ অর্ডার: সঞ্জু ফেরার পর চেন্নাইয়ের তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার পালা শুরু হয়। অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কওয়াড় (৬) এবং অভিষেককারী আয়ুষ মাত্রে (০) দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই ম্যাথিউ শর্টও আউট হয়ে গেলে সিএসকে-র স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৩৮। যদিও সারফরাজ খান (১৭) এবং জেমি ওভারটন কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন, কিন্তু জফ্রা আর্চার ও রবীন্দ্র জাদেজার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বড় স্কোর খাড়া করা অসম্ভব হয়ে পড়ে সিএসকের জন্য।