“দেশ এবার ‘নকশালমুক্ত’!”-৪২ বছরের মাওবাদী ভিত কীভাবে উপড়ে ফেলল মোদী সরকার?

লোকসভায় দাঁড়িয়ে নকশাল দমন ও আদিবাসী উন্নয়ন নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, “দীর্ঘ কংগ্রেস শাসনে আদিবাসীদের সংখ্যা কমে গেল কেন?” তাঁর দাবি, ১৯৭০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের ভুল নীতি ও প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণেই দেশে মাওবাদী মতাদর্শের শিকড় গভীরে পৌঁছেছিল।

‘বস্তারে নকশালবাদ এখন ইতিহাস’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন দাবি করেন, মোদী সরকারের আমলে ছত্তীসগঢ়ের বস্তার-সহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চল এখন ‘নকশালমুক্ত’। তাঁর বক্তব্যের প্রধান পয়েন্টগুলো হলো:

  • উন্নয়নের ছোঁয়া: আগে যে গ্রামগুলো বিচ্ছিন্ন ছিল, আজ সেখানে স্কুল, হাসপাতাল, রেশন দোকান ও এলপিজি সংযোগ পৌঁছেছে।

  • ভুল ন্যারেটিভ: শাহের মতে, রাষ্ট্র আদিবাসীদের কাছে পৌঁছাতে পারেনি বলেই একসময় তাঁরা বীরসা মুন্ডার আদর্শ ছেড়ে মাওবাদী পথে পা বাড়িয়েছিলেন।

  • কড়া বার্তা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এটি নরেন্দ্র মোদীর সরকার। কেউ অস্ত্র হাতে তুলে নিলে তার মোকাবিলা কড়া হাতেই করা হবে।”

কংগ্রেস ও ইন্দিরা গান্ধীকে নিশানায় শাহ সত্তরের দশকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নীতির সমালোচনা করে শাহ বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে বামপন্থী চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দেওয়ার ফলেই ‘রেড করিডর’-এর বিস্তার ঘটেছিল। তাঁর অভিযোগ, একসময় দেশের ১২টি রাজ্যে আইনের শাসন ভেঙে পড়েছিল এবং গত কয়েক দশকে প্রায় ২০ হাজার যুবক প্রাণ হারিয়েছেন।

পরিসংখ্যানের বজ্রাঘাত: অমিত শাহ জানান, অতীতে নকশালদের ব্যবহৃত অস্ত্রের ৯২ শতাংশই ছিল পুলিশের কাছ থেকে লুঠ করা। আজ সেই পরিস্থিতি বদলেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, সিআরপিএফ ও কোবরা ইউনিটের যৌথ প্রচেষ্টায়।

বিরোধীদের প্রতি তোপ বিরোধী শিবিরের একাংশকে ‘নকশাল সহানুভূতিশীল’ বলে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সত্তরের দশক থেকে এত বছর সময় পেয়েও কেন এই সমস্যার সমাধান করতে পারেনি কংগ্রেস?” বর্তমানে মানুষ আধার কার্ড ও রেশন কার্ডের মতো মৌলিক অধিকার পাওয়ায় মাওবাদী কার্যকলাপ কার্যত শেষ হতে চলেছে বলে দাবি করেন তিনি।