“বিয়াল্লিশ তো যাওয়ার বয়সও না”-রাহুল কি মৃত্যুর গল্প নিজেই লিখেছিলেন ৮ বছর আগে?

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক চলে যাওয়া যেন কোনো সিনেমার ট্র্যাজেডির চেয়েও ভয়ংকর। কিন্তু সত্যিই কি এটি স্রেফ দুর্ঘটনা? নাকি নিজের শেষ পরিণতির কথা আগেভাগেই টের পেয়েছিলেন অভিনেতা? তাঁর মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কিছু পুরনো লেখা এবং পোস্ট ঘিরে এখন এমনটাই দানা বাঁধছে টলিপাড়ার অন্দরে।

২০১৮-র সেই গল্প এবং হুবহু মিলে যাওয়া মৃত্যু: আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০১৮ সালে আর্টিস্ট ফোরামের এক পত্রিকায় রাহুল একটি ছোটগল্প লিখেছিলেন, যার নাম ছিল ‘বান্ধবী’। সেই গল্পের শুরুতেই অভিনেতা লিখেছিলেন নিজের মৃত্যুর বর্ণনা। সেখানে গল্পের নায়ক মারা যান জলে ডুবে, পাড়ার প্রতিমা ভাসানের সময়। রাহুল লিখেছিলেন, “বিয়াল্লিশ তো যাবার বয়সও না। বেরিয়ে এলাম জল থেকে। শরীর তুলেছে অবশ্য অন্যরা।” আজ ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে সেই বিয়াল্লিশ বছর বয়সেই দিঘার তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে ঠিক একইভাবে জলে ডুবে মৃত্যু হলো বাস্তবের রাহুলের। গল্পের সেই নোনা জল আর বালি যেন মিশে গেল অভিনেতার ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সঙ্গে।

শেষ ভিডিওর রহস্যময় ক্যাপশন: শুধু পুরনো লেখাই নয়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি সূর্যাস্তের ভিডিও পোস্ট করেছিলেন রাহুল। সেখানে তিনি লিখেছিলেন— “সূর্যাস্ত ও অরুণোদয় একসঙ্গে দেখার শেষ সুযোগ।” অনুরাগীদের দাবি, নিজের নাম ‘অরুণোদয়’-এর সঙ্গে মিলিয়ে এই ক্যাপশন যেন তাঁর জীবনের শেষ সূর্যাস্তের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কাকতালীয় হলেও এই পোস্টটি এখন ভক্তদের চোখে জল আনছে।

মৃত্যু ও শেষ সফর: রবিবার ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে তলিয়ে যান রাহুল। প্রায় এক ঘণ্টা জলের নিচে থাকার ফলে তাঁর ফুসফুসে বালি ও নোনা জল ঢুকে যায়। দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সোমবার বিজয়গড়ের পল্লীশ্রীতে অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন টলিউড তারকা থেকে শুরু করে বামপন্থী শীর্ষ নেতৃত্ব। এরপর কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হয় তাঁর শেষকৃত্য।

নিজের লেখায় তিনি নিজেই নিজেকে ‘রাজকীয়’ মৃতদেহ হিসেবে কল্পনা করেছিলেন। বাস্তবেও হাজার হাজার মানুষের চোখের জলে লাল সেলাম আর অগণিত ফুলের স্তবকে রাজকীয় বিদায় নিলেন টলিপাড়ার প্রিয় ‘বাবিন’।