বিশেষ: ডুবে মৃত্যু রাহুলের, সাঁতার না জানলেও কিভাবে বাঁচাবেন প্রাণ!? জানুন কৌশল

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণ ওড়িশার তালসারি সৈকতে এক মর্মান্তিক সত্য সামনে এনেছে। ওড়িশা পুলিশের দাবি অনুযায়ী, শুটিংয়ের ফাঁকে মাত্র হাঁটু সমান জলে নেমেছিলেন অভিনেতা। কিন্তু সেখানে ওত পেতে থাকা চোরাবালিতে পা আটকে যায় তাঁর, আর মুহূর্তের মধ্যে নোনা জলের ঢেউ ভাসিয়ে নিয়ে যায় তাঁকে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, ফুসফুসে অতিরিক্ত বালি এবং নোনা জল ঢুকে যাওয়ায় তা ফুলে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিই প্রাণ কেড়ে নেয় অভিনেতার।
বিপদে পড়লে প্রাণ বাঁচানোর ‘ম্যাজিক’ কৌশল অনেকেই সাঁতার জানেন না বলে জলকে ভয় পান, আবার কেউ কেউ অতি উৎসাহে গভীর সমুদ্রে নেমে পড়েন। কিন্তু সাঁতার না জানলেও বিপদে পড়লে মাথা ঠান্ডা রেখে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। মার্কিন সাঁতার প্রশিক্ষক মাইকেল অ্যালান কোলেবার এ বিষয়ে কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:
-
পোশাকের ব্যবহার: জলে পড়ে গেলে প্রথম কাজ হলো জুতো এবং প্যান্ট খুলে ফেলা। জুতো ও ভিজে প্যান্ট শরীরের ওজন বাড়িয়ে দেয়, যা ডুবিয়ে দিতে সাহায্য করে।
-
প্যান্ট যখন লাইফ জ্যাকেট: অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি, আপনার ফুল প্যান্টই হতে পারে রক্ষাকবচ। প্যান্টের দুটি পায়ে শক্ত করে গিঁট বেঁধে ফেলুন। এরপর প্যান্টটিকে জলের ওপর ঝাপটা দিয়ে বাতাস ভরে নিন। প্যান্টটি ফুলে উঠে একটি গোল টিউবের আকার নেবে, যা আপনাকে ভেসে থাকতে সাহায্য করবে।
-
সাইক্লিং মুভমেন্ট: জলের নিচে পা দুটিকে সাইকেল চালানোর মতো করে ক্রমাগত নাড়াতে থাকুন। এতে শরীর জলের ওপরে ভেসে থাকার শক্তি পাবে।
-
দম ধরে রাখা: সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো আতঙ্কিত না হয়ে শ্বাস ধরে রাখা এবং নাক-মুখ জলের ওপরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা।
বিশেষজ্ঞদের মত: যদিও প্রশিক্ষকদের একাংশ মনে করেন, বিপদের মুহূর্তে উপস্থিত বুদ্ধি খাটানো কঠিন, তবুও আগে থেকে এই পদ্ধতিগুলো জানা থাকলে চরম সংকটে জীবন বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে সমুদ্রের ঢেউ বা সুইমিং পুলে আচমকা পড়ে গেলে এই ‘সারভাইভাল ট্রিক’ আপনার শেষ সম্বল হতে পারে।