আপনার বাড়িতেও কি চিনা ক্যামেরা? সরকারি কোপে বড় ধাক্কা হিকভিশন-টিপি লিঙ্কের, জেনে নিন নতুন নিয়ম

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও সাইবার সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এবার চিনা নজরদারি প্রযুক্তির ওপর বড়সড় কোপ বসাল কেন্দ্র। আগামী ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে ভারতে হিকভিশন (Hikvision), দাহুয়া (Dahua) এবং টিপি-লিঙ্ক (TP-Link)-এর মতো চিনা ভিডিও নজরদারি সংস্থাগুলির ইন্টারনেট-সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট হার্ডওয়্যার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে চলেছে। ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন টেস্টিং অ্যান্ড কোয়ালিটি সার্টিফিকেশন (STQC) ছাড়পত্র ছাড়া কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা ভারতীয় বাজারে বিক্রি করা যাবে না।
সূত্রের খবর, সরকার স্পষ্টভাবে সেইসব ডিভাইসকে সার্টিফিকেশন দিতে অস্বীকার করছে যেগুলোতে চিনা চিপসেট বা চিনা ফার্মওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। দ্য ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, হিকভিশনের মতো সংস্থা যারা একসময় বাজারের এক-তৃতীয়াংশ দখল করে রেখেছিল, তাদের বিশাল কারখানাকেও অনুমোদন দেওয়া হয়নি কারণ তারা চিনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করছিল। দাহুয়ার ব্যবসা ইতিমধ্যেই ৮০ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে এবং তারা এখন শুধুমাত্র অ্যানালগ ক্যামেরা বিক্রিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এমনকি শাওমি (Xiaomi) বা রিয়েলমি (Realme)-র মতো স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলিও এই কড়া নিয়মের জেরে স্মার্ট হোম ক্যামেরা সেগমেন্ট থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছে।
অন্যদিকে, এই সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে আখেরে লাভ হচ্ছে ভারতীয় ব্র্যান্ডগুলোর। সিপি প্লাস (CP Plus), কিউবো (Qubo), প্রামা (Prama) এবং স্পর্শ (Sparsh)-এর মতো দেশীয় সংস্থাগুলি এখন বাজারের ৮০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা চিনা চিপসেটের বদলে তাইওয়ানের চিপসেট এবং দেশীয় ফার্মওয়্যার ব্যবহার করে নিজেদের সাপ্লাই চেইন সাজিয়ে নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনা পার্টস বাদ দিয়ে তাইওয়ান বা আমেরিকার যন্ত্রাংশ ব্যবহারের ফলে সিসিটিভি ক্যামেরার উৎপাদন খরচ ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে। যারা নতুন ক্যামেরা কেনার কথা ভাবছেন, তাদের অবশ্যই দেখে নিতে হবে ডিভাইসটি STQC এবং BIS অনুমোদিত কি না।