‘ভোট দিলেই দেখে নেব’, মমতা কি সত্যিই ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন? কমিশনের দরবারে বিস্ফোরক বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই তপ্ত রাজনৈতিক ময়দান। এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নির্বাচন ‘হাইজ্যাক’ করার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলো বিজেপি। সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু, পীযূষ গোয়েল এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। তাঁদের দাবি, রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে শাসকদল।

কিরেণ রিজিজু সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগ করেন, “দেশের পাঁচটি রাজ্যে ভোট চললেও পশ্চিমবঙ্গকে ঘিরে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। সেখানে গণতন্ত্রকে কার্যত বন্দি করা হয়েছে।” বিজেপির অভিযোগের মূল তির খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন। রিজিজুর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী হুমকি দিচ্ছেন যে যারা বিজেপিকে ভোট দেবে, তাদের দেখে নেওয়া হবে। এমনকি সরকারি আধিকারিক থেকে শুরু করে নিচুতলার কর্মীদেরও ভোট লুঠের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।”

বিজেপি প্রতিনিধি দল কমিশনের কাছে একটি বিস্তারিত পিটিশন জমা দিয়েছে, যেখানে কবে এবং কোথায় মুখ্যমন্ত্রী উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন, তার সবিস্তার তথ্য দেওয়া হয়েছে। সুকান্ত মজুমদার জানান, গত তিনটি নির্বাচনে যেভাবে পেশিশক্তি ব্যবহার করে তৃণমূল জিতেছে, এবার তা রুখতে কমিশনকে কঠোর হতে হবে। ২৯৪ আসনের এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ফলাফল প্রকাশিত হবে ৪ মে। বিজেপির এই নালিশের পর কমিশন কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।