মমতার প্রচার বন্ধের দাবি বিজেপির! ‘ভোটের পর মুচলেকা দিতে হবে’, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে তোলপাড় নির্বাচন কমিশন

ভোটের মুখে ফের তপ্ত বাংলার রাজনীতি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যকে ‘উসকানিমূলক’ ও ‘ভীতিপ্রদর্শনকারী’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলো বিজেপি। সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, নির্বাচনকে কলুষিত করার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী, তাই অবিলম্বে তাঁর নির্বাচনী প্রচার বন্ধ বা ‘ব্যান’ করা হোক।
বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভা থেকে ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন। সুকান্ত মজুমদার জানান, মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলছেন যে ভোটের পর সাধারণ মানুষকে ‘বিজেপি করি না’ বলে মুচলেকা দিতে বাধ্য করা হবে এবং বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড ঝোলাতে হবে। বিজেপির দাবি, এটি সরাসরি ভোটারদের প্রভাবিত করার এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা। কিরেণ রিজিজু বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন প্রক্রিয়াকে হাইজ্যাক করার চেষ্টা করছে। স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করে ঘরে ঘরে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা তথ্যপ্রমাণ সহ কমিশনকে জানিয়েছি যাতে গত তিনটি নির্বাচনের মতো এবার ভোট লুট না হয়।”
বিজেপির এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন পীযূষ গোয়েল, অরুণ সিং এবং অনিল বালুনির মতো শীর্ষ নেতারাও। তাঁরা কমিশনের কাছে মোট ৬ দফা দাবি পেশ করেছেন। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই তৃণমূল এখন বেপরোয়া হয়ে প্রশাসন ও পুলিশকে দিয়ে ভোট করানোর ছক কষছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী মমতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। এখন দেখার, বিজেপির এই নালিশের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে কী কড়া ব্যবস্থা নেয়।