“কোনওদিন মুসলিমরা প্রশ্ন করেছেন, মমতা একজন ব্রাহ্মণ বাড়ির মেয়ে”- পাশকুড়া থেকে বিদ্রোহীদের কড়া বার্তা মমতার

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের একাধিক জেলায় তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের ছবি ধরা পড়েছে। ১৭ মার্চ তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, প্রায় ৭৪ জন বর্তমান বিধায়ককে এবার টিকিট দেয়নি দল। এরপরই অনেক জায়গায় পুরনো নেতাদের অনুগামীরা ভাঙচুর ও বিক্ষোভে শামিল হন। এই পরিস্থিতিতে দলের রাশ শক্ত করতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

টিকিট না পাওয়া নিয়ে মমতার যুক্তি:
বিক্ষুব্ধদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, টিকিট পাননি বলে দলের বিরোধিতা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর কথায়, “যদি কেউ মনে করেন আজীবন আমি একা থাকব, আর কেউ থাকবে না—সেটা ভুল। নতুনদের সুযোগ দিতে হবে, মহিলাদের সুযোগ দিতে হবে, সংখ্যালঘুদেরও জায়গা দিতে হবে।” তিনি আশ্বাস দেন যে, পুরনোদের যথাযোগ্য সম্মান দিয়েই দলে কাজে লাগানো হবে।

সংখ্যালঘু প্রার্থী ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা:
সিরাজ খানের মতো সংখ্যালঘু প্রার্থীদের নিয়ে কোথাও কোথাও তৈরি হওয়া অসন্তোষের কড়া জবাব দিয়েছেন মমতা। আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন ব্রাহ্মণ বাড়ির মেয়ে। মুসলিমরা কি কোনোদিন প্রশ্ন করেছে কেন আমাকে মুখ্যমন্ত্রী করবে? তারা যদি তা না করে, তবে হিন্দুরা কেন সংখ্যালঘু প্রার্থী দেখলে মুখ ফিরিয়ে নেবেন? এটা হলে আমার সবথেকে বেশি অসম্মান হবে।”

অভিষেকের ‘ওয়ার্নিং’ ও বিশৃঙ্খলা:
উল্লেখ্য, গতকাল মুর্শিদাবাদের নওদায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার আগেও চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ব্লক সভাপতিকে টিকিট না দেওয়ায় চেয়ার ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। মঞ্চ থেকেই অভিষেক কড়া ভাষায় জানান, “সবার ওপর নজর রয়েছে। বিশৃঙ্খলা করে দলকে চাপে রাখা যাবে না। দল কাউকে ক্ষমা করবে না।”

একনজরে তৃণমূলের অস্বস্তি:

টিকিট বঞ্চিত: ৭৪ জন বর্তমান বিধায়ককে এবার বাদ দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভের কারণ: পুরনোদের সরিয়ে নতুন মুখ এবং ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে অন্য কেন্দ্রের প্রার্থীদের বিরোধিতা।

নেত্রীর বার্তা: দল সবার জন্য, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ না করলে কঠোর ব্যবস্থার ইঙ্গিত।