বিজয়গড়ে কান্নার রোল! নিথর দেহে ঘরে ফিরলেন সবার প্রিয় ‘বাবিন’, শেষ শ্রদ্ধায় ভেঙে পড়ল টলিপাড়া

দক্ষিণ কলকাতার বিজয়গড় আজ শোকস্তব্ধ। গত রাত থেকে যে থমথমে পরিবেশ ছিল, সোমবার সকালে রাহুলের মরদেহ পৌঁছাতেই তা কান্নার রোলে পরিণত হয়। চিরদিনের জন্য বিদায় নিলেন প্রতিভাবান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রিয় অভিনেতাকে শেষবার চোখের দেখা দেখতে বিজয়গড়ের বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছেন অগণিত অনুরাগী ও পড়শিরা।

টলিপাড়ার চোখের জল:
সকাল থেকেই রাহুলের বাসভবনে একে একে পৌঁছেছেন টলিউডের দিকপালরা। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে পর্দার জনপ্রিয় জুটি রুকমা রায়, উষসী চক্রবর্তী, রূপাঞ্জনা মৈত্র, চৈতী ঘোষাল এবং সুদীপ্তা চক্রবর্তীর মতো সহকর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ বিশ্বাস করতে পারছেন না যে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে ‘বাবিন’-কে এভাবে চিরবিদায় জানাতে হবে।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক তথ্য:
রবিবার তালসারির সমুদ্রে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও হাসপাতাল সূত্রে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। জানা গিয়েছে:

ফুসফুসে জল ও বালি: প্রাথমিক ময়নাতদন্তের ইঙ্গিত অনুযায়ী, তলিয়ে যাওয়ার সময় অভিনেতার ফুসফুস নোনা জলে ভরে গিয়েছিল। এমনকি শ্বাসনালীতে বালিও ঢুকে যায়।

মৃত্যুর কারণ: ফুসফুসে জল ঢুকে যাওয়ায় দমবন্ধ হয়ে আসে (Asphyxia) এবং তার ফলেই হৃদস্পন্দন থেমে যায় বলে চিকিৎসকদের অনুমান।

পুলিশের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ— দুই রাজ্যের পুলিশই ঘটনার সময়কার পরিস্থিতির তদন্ত চালাচ্ছে। শুটিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠেছিল, তা নিয়ে বিতর্ক চললেও আপাতত টলিপাড়া মেতেছে তাদের প্রিয় অভিনেতার শেষ বিদায়ে।