“৪২ তো যাওয়ার বয়স নয়…” মৃত্যুর চিত্রনাট্য কি আগেভাগেই তৈরি ছিল? রাহুলের কলমে মিলে গেল দিঘার সেই দুর্ঘটনা!

দক্ষিণ কলকাতার বিজয়গড় আজ নিস্তব্ধ। পাড়ার আদরের ‘বাবিন’ অর্থাৎ অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিথর দেহ তমলুক থেকে ফিরছে কলকাতায়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভিড় জমিয়েছেন অনুরাগীরা, টলিউডের তারকারা ভিড় করেছেন তাঁর বাসভবনে। কিন্তু এই শোকাতুর পরিবেশের মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের বেগে ভাইরাল হচ্ছে রাহুলের নিজের লেখা একটি পুরনো প্রবন্ধ। যা পড়ে রীতিমতো স্তম্ভিত নেটপাড়া।

ভয়ঙ্কর সমাপতন: ২০১৮-র লেখায় কি ছিল মৃত্যুর ইঙ্গিত?
অভিনয়ের পাশাপাশি রাহুলের নেশা ছিল লেখালেখি। ২০১৮ সালে ‘আর্টিস্ট ফোরাম’-এর মুখপত্র ‘বাতায়ন’-এ একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন তিনি, যার নাম ছিল ‘বান্ধবীরা’। সেই লেখার শুরুটাই ছিল শিউরে ওঠার মতো। রাহুল লিখেছিলেন:

“মৃত্যুর পর নিজেকে বেশ রাজকীয় লাগছে আমার। এমনিতেই মৃত্যুটা বেমক্কা হয়েছে… বিয়াল্লিশ তো যাবার বয়স নয়…।”

আশ্চর্যের বিষয় হলো, বর্তমানে রাহুলের বয়স ৪৩। ঠিক যে বয়সের কথা তিনি লিখেছিলেন, তার কোঠাতেই থেমে গেল তাঁর জীবনঘড়ি।

জলে ডুবে মৃত্যু: গল্পের পাতাই কি হয়ে উঠল বাস্তব?
রাহুলের সেই প্রবন্ধে উল্লেখ ছিল পাড়ার পুজোর ভাসানের কথা এবং শেষ সিঁড়িটা মিস করে জলে ডুবে যাওয়ার কথা। ঠিক একইভাবে বাস্তব জীবনেও শুটিংয়ের সময় সমুদ্রের জলে তলিয়ে গেলেন অভিনেতা। ওই প্রবন্ধে রাহুল বর্ণনা করেছিলেন, কীভাবে মৃত্যুর পর আত্মা দেহ থেকে বেরিয়ে চারপাশটা মেপে নিচ্ছে। আজ সেই লেখার প্রতিটা শব্দ যেন তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তের আয়না হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজয়গড়ে শোকের ছায়া, ফিরছেন ‘চিরদিনের নায়ক’
সোমবার সকাল থেকেই বিজয়গড়ে রাহুলের বাড়ির সামনে থিকথিকে ভিড়। স্কুলের বন্ধুরা তমলুক থেকে আগলে নিয়ে আসছেন তাঁদের প্রিয় বন্ধুকে। প্রিয় অভিনেতার অকাল বিদায়ে পাথর হয়ে গিয়েছেন অনুরাগীরা। অথচ ৬ বছর আগেই নিজের কলমে যে মৃত্যুর ছবি তিনি এঁকেছিলেন, আজ তা এমন হুবহু মিলে যাবে— তা ভাবতেও পারছেন না চিত্রকর কলুদাও, যিনি সেই সময় ওই লেখার অলঙ্করণ করেছিলেন।

কাল্পনিক গল্প আর বাস্তবের এই অদ্ভুত মিলন কি শুধুই সমাপতন? নাকি অভিনেতা আগেই অনুভব করেছিলেন তাঁর বিদায়বেলা? উত্তর অজানা, রয়ে গেল শুধু তাঁর রেখে যাওয়া অমর সৃষ্টি আর একরাশ হাহাকার।