২০২৬ চারধাম যাত্রায় রেকর্ড ভাঙা ভিড়! ২০ লক্ষ এলপিজি সিলিন্ডারের বিশাল চাহিদা ঘিরে তুঙ্গে প্রস্তুতি

২০২৬ সালের পুণ্যভূমি উত্তরাখণ্ডের ‘চারধাম যাত্রা’ ঘিরে সাজ সাজ রব। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রীতে। তবে এবারের যাত্রা মরশুমে ভিড়ের চাপ সামলানোর পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরবচ্ছিন্ন খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।

২০ লক্ষ সিলিন্ডারের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা
সূত্রের খবর, এবারের যাত্রায় তীর্থযাত্রীদের খাবারের চাহিদা মেটাতে প্রায় ২০ লক্ষ এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের প্রয়োজন হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এই চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ লক্ষ। যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা মাথায় রেখে এবার এক ধাক্কায় ৪ লক্ষ অতিরিক্ত সিলিন্ডারের প্রস্তাব পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যাত্রাপথের সাতটি প্রধান জেলাজুড়ে এই সরবরাহ নিশ্চিত করার নীল নকশা তৈরি হচ্ছে।

সংকটের মেঘ: আমজনতা বনাম তীর্থযাত্রা
প্রশাসনের এই বিশাল উদ্যোগের মাঝেই দানা বাঁধছে আশঙ্কা। বর্তমানে দেশজুড়ে এলপিজি গ্যাসের একপ্রকার আকাল চলছে। গৃহস্থালির রান্না থেকে শুরু করে সাধারণ রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা সিলিন্ডার পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে চারধাম যাত্রার জন্য বিপুল পরিমাণ গ্যাস বরাদ্দ করলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে: “তীর্থে আসা হাজার হাজার ভক্তের জন্য প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ খাবার তৈরি হয়, তার জন্য এলপিজি অত্যাবশ্যক। কিন্তু দেশের বর্তমান গ্যাস সংকটের মধ্যে এই বাড়তি চাহিদা পূরণ করা সরকারের জন্য অ্যাসিড টেস্টের সমান।”

পাহাড়ি পথে লজিস্টিকস চ্যালেঞ্জ
শুধু সিলিন্ডার জোগাড় করাই নয়, দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে দিয়ে তা সময়মতো ধাবা, হোটেল ও অস্থায়ী লঙ্গরখানায় পৌঁছে দেওয়াও এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।

চারধাম যাত্রা উত্তরাখণ্ডের অর্থনীতির অন্যতম মেরুদণ্ড। স্থানীয় ব্যবসা, পর্যটন ও পরিবহণ ক্ষেত্র এই সময়ের ওপর ভিত্তি করেই টিকে থাকে। ফলে জ্বালানির ঘাটতি যেন কোনোভাবেই এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই তীক্ষ্ণ নজর রাখছে উত্তরাখণ্ড সরকার।