BJP-তে যোগ কামদুনির প্রতিবাদী টুম্পা কয়ালের, দাঁড়াবেন কি ভোটে?

জল্পনার অবসান। কামদুনি গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার দীর্ঘ লড়াইয়ের অন্যতম মুখ টুম্পা কয়াল আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP)। রবিবার সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে গেরুয়া পতাকা তুলে নেন তিনি।

কেন বিজেপিকে বেছে নিলেন টুম্পা?

২০১৩ সাল থেকে কামদুনির কলেজ ছাত্রীর খুনের বিচার চেয়ে পথে নেমেছিলেন টুম্পা ও মৌসুমী কয়াল। এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়ে টুম্পা সরাসরি রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন:

“হাইকোর্ট থেকে নিরাশ হয়ে যখন সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম, তখন বিজেপিই আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এই দুর্নীতিবাজ সরকারকে হটাতেই আমার রাজনীতিতে আসা। মহিলা সুরক্ষা নিয়ে আন্দোলন করতে গেলে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন।”

টুম্পা আরও অভিযোগ করেন যে, ২০২৪ সালে তাঁর স্বামীর ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল এবং প্রতিবাদী হওয়ার কারণে তাঁদের বারবার হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে।

মধ্যমগ্রামে কি প্রার্থী হচ্ছেন টুম্পা?

টুম্পার বিজেপিতে যোগদানের পরই রাজনৈতিক মহলে প্রবল গুঞ্জন শুরু হয়েছে তাঁর নির্বাচনী লড়াই নিয়ে। বিজেপি এখনও ১৯টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা বাকি রেখেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম আসন থেকে টুম্পা কয়ালকে প্রার্থী করে মাস্টারস্ট্রোক দিতে পারে বিজেপি। নারী নির্যাতনের ইস্যুকে হাতিয়ার করে কামদুনির আন্দোলনের আবেগকে ভোটব্যাঙ্কে পরিণত করাই গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

ফিরে দেখা কামদুনি আন্দোলন

১৩ বছর আগে কামদুনির সেই নৃশংস ঘটনা রাজ্য রাজনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই সময় প্রতিবাদ করতে গিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর রোষের মুখে পড়েছিলেন টুম্পা ও মৌসুমীরা। তাঁদের ‘মাওবাদী’ তকমা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল শাসকদলের বিরুদ্ধে। সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের সেনাপতি এবার সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে নামায় লড়াই যে বেশ কঠিন হবে, তা বলাই বাহুল্য।