খাদ্যাভ্যাসে ‘ফতোয়া’ থেকে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া— জঙ্গলমহল থেকে বিজেপিকে চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বাঁকুড়ার রাইপুরে সবুজ সংঘ ক্লাবের মাঠের জনসভা থেকে সুর চড়িয়ে তিনি অভিযোগ করলেন, দেশ এখন ‘নোটবন্দি’র পর ‘ভোটবন্দি’র দিকে এগোচ্ছে। জঙ্গলমহলের মাটি থেকে বিজেপিকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার পরিকল্পিতভাবে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। মমতার আশঙ্কা, এরপর হয়তো মানুষকে ঘরবন্দি ও জেলবন্দি করার ছক কষা হবে, আর নেপথ্যে চলবে লুটেপুটে খাওয়ার রাজনীতি।
এদিনের সভায় মুখ্যমন্ত্রীর তিরে ছিল ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, কেন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হলো? মমতার দাবি, সামনে থেকে লড়াই করতে না পেরে বিজেপি এখন ‘মেঘের আড়াল’ থেকে পিছন দরজায় খেলা খেলছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মেঘের আড়াল থেকে খেলতে গেলে যখন বিদ্যুতের ঝলকানি আসবে, তখন আপনাদেরই সর্বনাশ হয়ে যাবে।”
ভোটের রাজনীতির পাশাপাশি মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে খাদ্যাভ্যাসে ‘ফতোয়া’ জারির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মাছ, মাংস বা ডিম খাব কি না, তা ঠিক করে দেওয়ার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে? এটি মানুষের পুষ্টির অধিকার।” প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে নাক গলানোর এই প্রচেষ্টাকে তিনি ‘গণতন্ত্রের সর্বনাশ’ বলে অভিহিত করেন। রাইপুরের সভা থেকে বিভাজনের রাজনীতির অবসান ঘটাতে এবং ইভিএমে এর যোগ্য জবাব দিতে জঙ্গলমহলবাসীকে ঐক্যের ডাক দেন তৃণমূল নেত্রী।